সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
রবিবার গভীর রাতে ভস্মীভূত হয়ে যাওয়া খিদিরপুর বাজারের আগুন নেভানোর কাজে জল তোলার পাম্প ঠিকঠাক কাজ না করায় জলের যোগান পেতে দেরি হয়। সেজন্য আগুন নেভানোর কাজে দেরি হয়েছে বলে জানালেন রাজ্যের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু।
মঙ্গলবার রাজ্য বিধানসভায় খিদিরপুর বাজারের অগ্নিকাণ্ড নিয়ে বিবৃতি দিতে গিয়ে জল তোলার জন্য পাম্প যে ঠিকমতো চলেনি তা মেনে নিয়ে দমকলমন্ত্রী বলেন “কেন পাম্প চলেনি সেটা জানার দরকার আছে। আদিগঙ্গার পাম্প যখন চালানো হয় তখন পলি চলে এসেছিল। সেই কারণে কিছুটা দেরি হয়েছে।”
দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু জানান “মুখ্যমন্ত্রী একটি রিপোর্ট চেয়েছিলেন। আমরা সেটা বিভিন্ন দফতরের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিকভাবে দিয়েছি। প্রাথমিকভাবে তৈরি হওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী ৭০০ জন মত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।” আগুন নেভানোর কাজে দেরির কথা মেনে নিলেও ফায়ার ব্রিগেডের গাড়িতে জল না থাকা এবং পাম্পে তেল না থাকার তথ্য ‘ভুল’ বলে দাবি সুজিত বসুর। মন্ত্রীর কথায় “এগুলো সম্পূর্ণ ভুল তথ্য। ফায়ার ব্রিগেডের গাড়িতে অবশ্যই জল ছিল। আরও একটি ভুল তথ্য প্রচারিত হয়েছে যে পাম্পে তেল ছিল না। এটাও পুরোপুরি ভুল।”
খিদিরপুর বাজারের অগ্নিকাণ্ড নিয়ে মঙ্গলবার বিধানসভায় বিবৃতি দিতে গিয়ে দমকলমন্ত্রী জানান, আগুন লাগার পর কন্ট্রোল রুমে প্রথম কল আসে রাত দুটো পাঁচ মিনিট নাগাদ। হেডকোয়ার্টার থেকে প্রথমে তিনটে গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরবর্তী সময়ে কুড়িটা ফায়ার টেন্ডার পৌঁছয়। কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম রাতেই দমকল মন্ত্রীকে ফোন করেন। সুজিতবাবু জানান, “আমি নিজে ভোর ছ’টার আগে ঘটনাস্থলে পৌঁছই। সিনিয়র অফিসাররা ঘটনাস্থলে যান। ফায়ার সার্ভিসের ডিরেক্টর অফ জেনারেল সেখানে পৌঁছন। ডেপুটি ডাইরেক্টর সহ স্টেশন অফিসার চারজন ছিলেন। দফতরের অন্যান্য কর্মীরা সেখানে ছিলেন।” উল্লেখযোগ্য, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোমবার দুপুরেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেন।
