সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
রাজ্যের বেসরকারি হাসপাতাল পরিষেবায় রোগী হয়রানি ঠেকাতে এবার প্রশাসনিকভাবে উদ্যোগী হল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার রাজ্য বিধানসভায় স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে পেশ করা দি ওয়েস্ট বেঙ্গল ক্লিনিকাল এস্টাবলিশমেন্টস ( রেজিস্ট্রেশন, রেগুলেশন এন্ড ট্রান্সপারেন্সি) ( এমেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৫ পাস হয়। শাসক-বিরোধী দুপক্ষের আলোচনা ও সমালোচনার মাধ্যমে রাজ্যের বেসরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ক্ষেত্রে এই বিল যথেষ্ট কার্যকরী হবে বলে মনে করছে সরকারি মহল।
রাজ্যের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে মোটা অঙ্কের অতিরিক্ত বিলসহ রোগী হয়রানি ঠেকাতে মঙ্গলবার রাজ্য বিধানসভায় এই বিল পেশ করে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের হাত ধরে পেশ হওয়া দি ওয়েস্ট বেঙ্গল ক্লিনিকাল এস্টাব্লিশমেন্টস বিল ২০২৫ নিয়ে আলোচনায় মঙ্গলবার অংশগ্রহণ করেন বিরোধীরাও। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারি বলেন,”হাসপাতালে মহিলা ডাক্তার বা অন্যান্য কর্মীদের নিরাপত্তার জন্য কোনো ব্যবস্থা নেই এই বিলে। আরজিকর থেকে কোনো শিক্ষা নেয়নি সরকার।” যদিও সংশ্লিষ্ট দফতরের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য পাল্টা জানান, “মহিলাদের নিরাপত্তা অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু সকলের জানা উচিত সরকারি স্তরে কর্মরতাদের জন্য বিশাখা গাইডলাইন আছে। বেসরকারি সংস্থা কীভাবে মহিলা কর্মীদের নিরাপত্তা প্রদান করবে সেটা তাদের বিষয়। আমরা রোগীর সেবা নিয়ে ঢুকতে পারি। কিন্তু গাইডলাইন তৈরি করে কারোর ব্যবসা বন্ধ করতে পারি না।”
তবে বিরোধী দলনেতা ই-প্রেসক্রিপশন নিয়ে প্রস্তাব আকারে বিধানসভায় সরকারপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, “বড় বেসরকারি হাসপাতালে
ই-প্রেসক্রিপশনে অসুবিধা নেই। কিন্তু ছোট হাসপাতাল গুলো কী করবে? উত্তরে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন,
“এখন তো ডিজিটাল ইন্ডিয়া। তাহলে ই-প্রেসক্রিপশনে আপত্তি কোথায়?”
ই-প্রেসক্রিপশনে আপত্তি করছেন। তাহলে ডিজিটাল ইন্ডিয়া কোথায়?” তবে পাবলিক ডোমেইনে নয়,
রোগী বা রোগীর পরিবার চাইলে সেটা পাবেন বলেও এই বিলে জানানো হয়েছে। বিরোধীরা অবশ্য অভিযোগ করেছে তড়িঘড়ি এই বিল আনা হয়েছে। যদিও সেই অভিযোগ নস্যাৎ করে দিয়েছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তাঁর মতে,”তড়িঘড়ি করে বিল কখনওই আনা হয়নি। সাধারণ মানুষের স্বার্থে এই বিল আনা হয়েছে। কাউকে অপমান করা নয়, নিয়ন্ত্রণে যাতে অসুবিধে না হয় সেদিকে নজর রেখেই বিল আনা হয়েছে। রাজ্য সরকার সব সময় চায় যৌথভাবে কাজ করতে।” এই বিলের মূল সারাংশ হল রাজ্য সরকার এবং বেসরকারি উদ্যোগ একযোগে সাধারণ মানুষকে উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়া। বিরোধীরা অভিযোগ করেছেন, “অনেক রোগী পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে ভিনরাজ্যে চলে যাচ্ছেন।” সেক্ষেত্রে শাসকের পালটা মত “হাসপাতালে তো রোগীরা জায়গা পাচ্ছেন না। সত্যিই এমন যদি হতো তাহলে তো হাসপাতালে উপচে পড়া ভিড় হতো না। চিকিৎসা রাজ্যে করাবেন না ভিন রাজ্যে করাবেন তা রোগীর ব্যক্তিগত অধিকারের মধ্যে পড়ে” সাফ বক্তব্য চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের। জোর করে লোক ঢোকানো এবং বেসরকারি হাসপাতাল থেকে অনৈতিকভাবে টাকা নেওয়ার প্রশ্নে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য পাল্টা প্রশ্ন তোলেন “বিরোধী দলনেতা কি জানেন কি পদ্ধতিতে অনৈতিকভাবে লোক ঢোকাতে হয়? ২০১১ সালে যখন আমরা ক্ষমতায় আসি তখন স্বাস্থ্যব্যবস্থার অবস্থা কী ছিল আর এখন কেমন সেটা সবাই জানেন। একমাত্র এই রাজ্যেই এমন বিল পাস হলো।” স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন,”এক জায়গা থেকে যাতে দেখভাল করা যায় সেই ব্যবস্থা করার জন্যই এই বিল। বেসরকারি হাসপাতাল কী পদক্ষেপ নিল তার চিকিৎসার ব্যাপারে তা নিয়ে রোগী বা রোগীর পরিবারের জানার অধিকার আছে।” আর রোগীর সেই অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করতেই এই নয়া বিল বলে জানান চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।
