মুকুল রায়ের বিধানসভায় অবস্থান নিয়ে ফের জটিলতা তৈরি হল আদালতে। কোন দলে তিনি আছেন, তা নিয়ে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি হয়। বিচারপতি দেবাংসু বসাক রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেলকে প্রশ্ন করেন, মামলাটি যখন ইতিমধ্যেই প্রধান বিচারপতির কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে, তাহলে তা নিয়ে এখন নতুন করে প্রশ্ন তোলা কেন?
বিধানসভার স্পিকারের আইনজীবী তথা অ্যাডভোকেট জেনারেল আদালতে জানান, প্রধান বিচারপতির নির্দেশেই এই ডিভিশন বেঞ্চ গঠিত হয়েছে। তাই প্রথমেই মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। কারণ, স্পিকারের সাংবিধানিক ক্ষমতার উপর আদালত সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারে না।
উল্লেখ্য, মুকুল রায় ২০২১ সালে বিজেপির টিকিটে বিধায়ক হলেও পরে তৃণমূলে যোগ দেন। কিন্তু তাঁকে বিরোধী দলের প্রতিনিধি হিসেবেই পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, ওই পদে বিরোধী দলের বিধায়ক থাকা বাধ্যতামূলক। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই জনস্বার্থ মামলা করেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী।
প্রাথমিক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ বিষয়টি ফের সিদ্ধান্তের জন্য পাঠান বিধানসভার স্পিকারের কাছে। কিন্তু স্পিকার তাঁর আগের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন, মুকুল রায় বিজেপির বিধায়কই আছেন। এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে ফের মামলা দায়ের হয় কলকাতা হাই কোর্টে।
এই মামলাতেই মঙ্গলবার বিচারপতির মন্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনার ঝড় ওঠে রাজনৈতিক মহলে। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামীকাল, বুধবার।
