দীর্ঘ সময় বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করে বর্ষণমুখর দিনে ‘কেয়াপাতার নৌকা’ ভাসিয়ে চির ঘুমের দেশে পাড়ি দিলেন সাহিত্যিক প্রফুল্ল রায়। গল্প, উপন্যাস না পড়ার এই ঘোর দুর্দিনে আরও এক অভিভাবককে হারাল বাংলা সাহিত্য।প্রফুল্ল রায়ের জন্ম ১১ সেপ্টেম্বর ১৯৩৪, অবিভক্ত বাংলাদেশে। ঢাকার বিক্রমপুরের আটপাড়ায় জন্ম, বেড়ে ওঠা।১৯৫০ সাল নাগাদ চলে এসেছিলেন ভারতে।তার পর থেকে কলকাতাতেই থেকেছেন। দীর্ঘ সময়কালে লিখেছেন বহু উপন্যাস, ছোটগল্প।তবে মানুষের জীবনযাত্রার রসদের খোঁজে একটা সময় ঘুরে বেড়িয়েছে নানা জায়গায়।গিয়েছেন নাগাল্যান্ড থেকে আন্দামান, বিহার থেকে বাংলার নানা প্রান্তে।তাঁর লেখনীতেই উঠে এসেছে সেসব মানুষের কথা।
‘কেয়া পাতার নৌকো’, ‘মন্দ মেয়ের উপাখ্যান’-এর স্রষ্টা উপন্যাস এবং ছোটগল্প মিলিয়ে শতাধিক বই লিখেছেন। ‘আকাশের নেই মানুষ’ উপন্যাসের জন্য পেয়েছেন বঙ্কিম পুরষ্কার। ‘ক্রান্তিকাল’ উপন্যাসের জন্য পেয়েছেন সাহিত্য আকাদেমি পুরষ্কার। তাঁর লেখাকে অবলম্বন করে ইতিমধ্যে একাধিক টেলিফিল্ম তৈরি হয়েছে নানা সময়ে। বিভিন্ন জনপ্রিয় পত্রিকায় তাঁর ধারাবাহিক উপন্যাস রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছিল একটা সময়।তাঁর লেখনীর মাধ্যমে মধ্যবিত্ত বাঙালি পরিবারের ছবি এঁকে গেছেন নিখুতভাবে।বিহারের জনজীবনও ধরা পড়েছে তাঁর লেখায়।
তাঁর রচিত ‘ শতধারায় বয়ে যায়’, ‘উত্তাল সময়ের ইতিকথা’, ‘নোনা জল মিঠে মাটি’-র মত সৃষ্টি তাঁকে অমর করেছে বাংলা সাহিত্যে।‘কেয়াপাতার নৌকা’, ‘শতধারায় বয়ে যায়’, ‘উত্তাল সময়ের ইতিকথা’ আকারে এবং নামে আলাদা হলেও আসলে তিনটি উপন্যাস মিলেই একটি ত্রয়ী উপন্যাস। বয়সজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন দীর্ঘদিন। ভর্তি ছিলেন শহরের এক বেসরকারি হাসপাতালে। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রয়াত হয়েছেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক। তাঁর মৃত্যুর খবরে সাহিত্য জগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
Leave a comment
Leave a comment
