এবার চিন সফরে যাচ্ছেন বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৯ সদস্যের এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। চিনের কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে আগামী রবিবার এই সফর শুরু হচ্ছে বলে বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে। গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়িয়ে চলেছে চিন। এর মধ্যে রয়েছে বিএনপি, সদ্য-গঠিত এনসিপি ও কিছু ইসলামপন্থী দল।
গত এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুসের চিনে গিয়ে ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চল নিয়ে মন্তব্যের জেরে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।বেজিংয়ে মুহাম্মদ ইউনুস ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সেভেন সিস্টার্স এলাকা ‘ল্যান্ড লকড’ বা অবরুদ্ধ এলাকা বলে অভিহিত করেন। জানান বাংলাদেশই এই বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের অভিভাবক। চিন ও চিনের বাণিজ্য কাছে টানতে ইউনুসের ওই কথার কড়া সমালোচনা করে ভারত।
কিন্তু শেখ হাসিনা জামানা শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশের চিন নির্ভরতা বাড়ার পাশাপাশি বেজিং এর বিএনপি ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে কেন? ইউনুসের সফরের কিছুদিন আগেই দলের শীর্ষ নেতা মঈন খানের নেতৃত্বে বিএনপি ও তাদের সহযোগী পার্টিগুলোর একটি প্রতিনিধি দল চিন সফর করে এসেছে বেজিংয়ের আমন্ত্রণে। ২৪ ফেব্রুয়ারি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার এবং দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে আটটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়ে গঠিত ২১ সদস্যের প্রতিনিধিদল ১১ দিনের সফরে চিন যায়।চিন জানায় রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের সঙ্গে বহুদলীয় সম্পর্ক জোরদারের কৌশলের অংশ হিসেবেই এই সফরের আয়োজন। তবে বিশ্লেষকদের মত অনুযায়ী বিএনপি নেতারা চিনা নেতৃত্বকে এই কথা দিয়ে এসেছেন যে তারা সরকার গড়তে পারলে তিস্তা সহ বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করার ভার তারা বেজিংকে দেবে।
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অনেকেই বিএনপিকে আগামী দিনে সরকার গড়তে পারে এমন দল হিসেবেই বিবেচনা করছে। এমনকি সরকার গড়ার লক্ষ্যে দ্রুত নির্বাচনও চাইছে খালেদা জিয়ার দল। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে চিনের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক গভীর করতে এই সফর।
Leave a comment
Leave a comment
