বিদেশের মাটিতে বড়সড় কুটনৈতিক জয় নরেন্দ্র মোদী সরকারের। বন্ধ আকাশপথ একমাত্র ভারতের জন্য খুলে দিল তেহরান। অষ্টম দিনে ইজরায়েল এবং ইরান যুদ্ধ। একে অপরের বিরুদ্ধে হানা মিসাইলে তছনছ দুই দেশেরই একাধিক শহর। আর এই পরিস্থিতিতে সে দেশে আটকে পড়ে বহু ভারতীয় ছাত্র। আকাশপথ বন্ধ থাকায় তাঁদের উদ্ধারে রীতিমত চ্যালেঞ্জ বাড়ছিল। এই পরিস্থিতিতে বড় পদক্ষেপ যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইরান সরকারের। খুলে দেওয়া হল দেশের এয়ারস্পেস।
জানা যাচ্ছে, শুধুমাত্র ভারতের জন্য তেহরান নিজেদের আকাশ পথ খুলেছে। আর এরপরেই অন্তত ১০০০ পড়ুয়াকে উদ্ধার করা সহজ হল বলে মনে করা হচ্ছে। এক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আকাশ পথ খুলে খুলে দেওয়ার পরেই ইরান থেকে পড়ুয়াদের ‘এয়ারলিফট’ করা হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আজ শুক্রবার রাত ১১ টা নাগাদ দিল্লি বিমানবন্দর ছোঁবে বিশেষ বিমান। এমনকী শনিবারও আরও দুটি বিশেষ বিমান আটকে পড়া ভারতীয়দের নিয়ে ফিরবে বলেই খবর।
বলে রাখা প্রয়োজন গত কয়েকদিন আগেই ‘অপারেশন সিন্ধু’ অভিযানের মাধ্যমে শতাধিকের বেশি পড়ুয়াকে দেশে ফিরে এনেছে ভারত। আর্মেনিয়া হয়ে দিল্লিগামী বিশেষ বিমানে তাঁদের ফেরানো হয়। উল্লেখ্য, যুদ্ধ বিধ্বস্ত তেহরানে প্রায় ৪০০০ ভারতীয় আটকে আছে। তাঁদের উদ্ধারেই ‘অপারেশন সিন্ধু’ অভিযান শুরু করেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। আর এই অপারেশনে ভারতীয় বায়ুসেনা সহ একাধিক বেসরকারি বিমান সংস্থাকে যুক্ত করা হয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বন্ধ ইরানের আকাশ পথ। আর সেই কারনে ‘অপারেশন সিন্ধু’ অভিযানের মাধ্যমে ভারতীয়দের নর্দান ইরান (যেমন, উর্মিয়া) থেকে আর্মেনিয়ায় স্থলপথে নিয়ে আসা হতে পারে বলে ঠিক হয়। রাজধানী ইয়রেভান থেকে নয়াদিল্লি পর্যন্ত চার্টার্ড ফ্লাইটের ভারতে ফেরানোর ব্যবস্থাও করা হয়। এছাড়াও বিকল্প করিডোরের ব্যবস্থাও খোলা রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে তুর্কমেনিস্তানের মধ্য দিয়ে ট্রানজিট রুট তৈরির ভাবনা রয়েছে ভারতের। আর এর মধ্যেই দেশের আকাশ পথ ভারতীয় নাগরিকদের উদ্ধারে খুলে দিল তেহরান। যা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
