ইরান-ইজরায়েল সংঘর্ষে কি আমেরিকাও ঢুকে পড়তে চলেছে? বিগত কয়েক দিন ধরে সেই সম্ভাবনা ক্রমশ উজ্জ্বল হচ্ছে। জানা গিয়েছে, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দু’সপ্তাহের মধ্যে ইরানের উপর সামরিক আক্রমণ চালাবেন কিনা, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এই তথ্য জানান। লেভিট বলেন, “বর্তমানে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার সুযোগ রয়েছে। সেই পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করেই প্রেসিডেন্ট আগামী সপ্তাহ দু’য়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেবেন।”
এখন প্রশ্ন হল, ইরান-ইজরায়েল দ্বন্দ্বে কেন জড়াতে চাইছে আমেরিকা? কী তার স্বার্থ? স্পষ্ট করে এর কোনও জবাব দিতে পারেননি ট্রাম্প। কিন্তু আমেরিকার ইতিহাস বলে, পশ্চিম এশিয়ায় তথা সমগ্র এশিয়াতেই বার বার যুদ্ধে জড়িয়েছে আমেরিকা। ভিয়েতনাম থেকে শুরু করে ইরাক হয়ে আফগানিস্তান— বার বার মার্কিন সেনা নেমেছে। কোটি কোটি ডলার জলের মতো খরচ হয়েছে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী, একটি লড়াইও জিতে ফিরতে পারেনি আমেরিকা। আবারও একবার তেমনই এক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আগে তাই এই প্রশ্ন নিয়েও ভাবতে হচ্ছে ট্রাম্পকে। যদিও হোয়াইট হাউস বলছে, ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি থামানোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। মুখপাত্রী লেভিট জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চান ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ করুক এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সব সম্ভাবনা চিরতরে খারিজ করুক। তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষপাতী। কিন্তু প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করতেও প্রস্তুত। তিনি ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য শক্তি’র নীতিতে বিশ্বাস করেন।”
এর আগে একাধিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, ট্রাম্প ইরান আক্রমণের পরিকল্পনায় সম্মতি জানালেও এখনো পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত নির্দেশ দেননি।
বৃহস্পতিবার ইসরায়েল ইরানের একটি পারমাণবিক ঘাঁটিতে হামলা চালায়। এর পাল্টা জবাবে ইরান একাধিক মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালায়, যার মধ্যে একটি ড্রোন ইসরায়েলের বীরশেবার সোরোকা মেডিকেল সেন্টারে আঘাত হানে। এই ঘটনার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “তেহরানের শাসকদের কঠিন মূল্য দিতে হবে।”
ওয়াশিংটন ও তেহরানের টানাপড়েনের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়ার প্রেক্ষিতে আমেরিকার পদক্ষেপ এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় ভূমিকা নিতে চলেছে।
