প্রত্যেক বছরই সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার নতুন কিছু না কিছু চমক দিয়ে থাকে। এ বার তাদের থিম ‘অপারেশন সিঁদুর’। সন্ত্রাসবাদ দমনে ভারতীয় সেনার অবদানকে ফুটিয়ে তুলবে শহরের অন্যতম বড় এই পুজো কমিটি। আর তাতেই বিতর্ক। এই থিম ঘোষণা করার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশের তরফে একটি নোটিশ সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারকে পাঠানো হয়েছে বলে খবর। ক্রাউড ম্যানেজমেন্টের কথা বলে সেই নোটিশ বিজেপি কাউন্সিলার তথা পুজো উদ্যোক্তা সজল ঘোষকে দেওয়া হয়েছে।
শহরের মধ্যে একমাত্র তাঁদের পুজো কমিটিকেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে এই নোটিশ ধরানো হয়েছে বলে অভিযোগ বিজেপি নেতার। এই ইস্যুকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে প্রচারে নেমে পড়েছে বঙ্গ বিজেপি। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের দাবি, ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুনেই কেঁপে উঠল তৃণমূল’। এমন কী এ হেন নোটিশ পরিকল্পিত রাজনৈতিক দমনপীড়ন নয় কি? তা নিয়েও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি। আর এর পরেই এই ইস্যুতে নাম না করে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বার্তা দিল কলকাতা পুলিশ।
ডিসিপি সেন্ট্রাল কলকাতার নামে একটি পেজ থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। যেখানে দাবি করা হয়েছে, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পুজো কমিটি সংক্রান্ত খবর ছাড়াচ্ছে। মুচিপাড়া থানার অন্তর্গত ওই পুজো কমিটি নিয়ে যা বলা হচ্ছে তা ভুল’। আসল তথ্য তুলে ধরার কথাও বলা হয়েছে ওই টুইটে। সেখানে ডিসিপি আরও লিখছেন, ওই পুজো কমিটির প্রেসিডেন্ট গত ১৮ তারিখ নোটিশের জবাব দিয়েছেন। পুলিশের তোলা উদ্বেগগুলিকে মেনে নিয়েছেন এবং সব রকম ভাবে সহযোগিতা করবেন বলেও উল্লেখ করেছেন।
কলকাতা পুলিশের দাবি, সকল দর্শনার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এক্ষেত্রে যে কোনও বিভ্রান্তি কিংবা ভুল তথ্য ছড়ানো ঠিক নয় তাও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এর আগেও লালবাজারের তরফে বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়। জানানো হয়, অপারেশন সিঁদুর থিম নিয়ে কোথাও কোনও আপত্তি নেই। গত বছরের পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে কলকাতা পুলিশ আরও জানায়, গত বছর পদপৃষ্টের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশকে হিমশিম খেয়েছিল বলেও দাবি করা হয়।
যদিও পুজোর অন্যতম উদ্যোক্তা সজল ঘোষ এর পিছনে পুলিশের বৈষম্যমুলক আচরণ দেখছেন। তাঁর দাবি, ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামেই আপত্তি রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের। প্রসঙ্গত, গত বছর ‘রামমন্দির’-এর আদলে মণ্ডপ বানিয়ে হইচই ফেলে দিয়েছিল সজলের পুজো। ভিড় সামলাতে নাজেহাল হতে হয়েছিল পুলিশকে। এ বার সেই পরিস্থিতি যাতে না হয়, সে জন্য আগে থেকেই সতর্ক লালবাজার। যদিও এ বারের পুজো নিয়েও বিতর্ক শুরু হয়ে গেল। এই ঘটনা নতুন নয়। এর আগে যখন রামমন্দির তৈরি করেছিল এই পুজো কমিটি, সেই সময় পুলিশের চাপ এসেছিল বলে অভিযোগ। ভিড়ের অজুহাত দেখিয়ে লাইট এন্ড সাউন্ড বন্ধ করে দেওয়া হয়। গতবছরও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছিল। আর এখানেই সজলের প্রশ্ন, শুধুই সন্তোষ মিত্র পার্কের পুজোয় ভিড় হয় কলকাতায়? আর কোথাও ভিড় হয় না? এর পিছনে রাজনৈতিক চাপ আছে বলেই দাবি বিজেপি নেতার।
https://www.facebook.com/photo/?fbid=1323106635844474&set=a.558559128965899
