নির্বাচনের আগে বড় চমক দিলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার! সে রাজ্যের সমস্ত বয়স্ক নাগরিক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও বিধবা মহিলাদের জন্য মাসিক ভাতা এক ধাক্কায় বাড়লো অনেকটা। পূর্বের ৪০০ টাকা থেকে বরাদ্দ বাড়িয়ে মাথাপিছু ১১০০ টাকা করা হয়েছে। আগামী জুলাই মাস থেকে কার্যকর হবে এই সিদ্ধান্ত। সরকারের এই পদক্ষেপে উপকৃত হবেন প্রায় ১ কোটি ৯ লক্ষ ৬৯ হাজার ২৫৫ জন উপভোক্তা। মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার জানান, প্রতিমাসের ১০ তারিখের মধ্যে এই টাকা উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে।
ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বয়স্করা সমাজের অমূল্য সম্পদ। তাঁদের সম্মান ও মর্যাদার জীবনযাত্রা নিশ্চিত করাই সরকারের অগ্রাধিকার। পাশাপাশি আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি আইনের অধীনে এখন থেকে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানরা ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত প্রকল্প নিজেরাই অনুমোদন করতে পারবেন। পূর্বে এই সীমা ছিল ৫ লক্ষ টাকা। এছাড়া পঞ্চায়েতি রাজ ব্যবস্থার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভাতা বাড়ানো হয়েছে। জেলা পরিষদের সভাপতির মাসিক ভাতা ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করা হয়েছে। সহসভাপতির ক্ষেত্রে তা ১০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার এবং প্রধানদের ক্ষেত্রে ৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৭,৫০০ টাকা করা হয়েছে।
শুক্রবার সিওয়ান সফরে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এক জনসভায় ভাষণও দেন তিনি। বিহারের উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং কংগ্রেস-আরজেডি জোটকে কটাক্ষ করেন। এছড়াও, এদিন মোট ৫,৭৩৬ কোটি টাকার প্রকল্প উদ্বোধন করেন নরেন্দ্র মোদী, যার মধ্যে রয়েছে ২২টি নগর পরিকাঠামো প্রকল্প, ৬টি রাস্তা প্রকল্প, একটি রেল প্রকল্প এবং বন্দে ভারত এক্সপ্রেস সহ দুটি নতুন ট্রেনের সূচনা। এছাড়াও তিনি মধুরা রেল কারখানায় তৈরি প্রথম ইঞ্জিন বিদেশে রফতানি করার কথা ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য, বছরের শেষ দিকে বিহারে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। তার আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিহারের উন্নয়নের জোর দেওয়া এবং মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের ঘোষণা মানুষের মনে ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
