বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়নি, তাদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।এবং এবারের ভোটে তারা থাকবে কি না, সেটা নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে – বিবিসির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
আগামী ৫ অগাস্ট ‘ছাত্র জনতার অভ্যুত্থান দিবস’ পালন করতে চলেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। গত বছর ৫ অগাস্ট ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশে শাসন ক্ষমতায় আসে। এর পরেই আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে সরব হয় বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। এরপর সেই দাবি মেনে একেবারে নিষিদ্ধ নয়, আওয়ামী লীগের কার্যকলাপ নিষিদ্ধ হওয়ার কথা জানান বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হয় আওয়ামী লীগের কার্যকলাপ। অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতিতে বলা হয় যে বাংলাদেশের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জুলাই আন্দোলনের নেতা ও কর্মীদের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাক্ষীদের সুরক্ষার স্বার্থেই আওয়ামী লীগের কাজকর্ম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
তবে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার শেখ হাসিনার দলের কাজকর্মে বেড়ি পড়ালেও এখনও সে দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় নি।এই অবস্থায় আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কী না সে প্রশ্নের জবাবে বিবিসির কাছে মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, “নির্বাচনে তারা থাকবে কি না, সেটা নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।” আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনার দলের ব্যালট থাকার সম্ভাবনা আছে কী না সে প্রশ্নের উত্তরও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের উপর ছেড়ে দিয়েছেন মুহাম্মদ ইউনূস।
এবারের ভোটে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ না করতে পারলেও সাক্ষাৎকারে নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং অংশগ্রহণমূলক হবে বলে দাবি করেছেন তিনি। ঢাকায় রাষ্ট্রসঙ্ঘের রেসিডেন্ট কো-অর্ডিনেটরের ব্যাখ্যা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক মানে কোনও নির্দিষ্ট দল নয়, সব মানুষের অংশগ্রহণ। যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষ ভোট দিতে পারছে, ততক্ষণ এটা অন্তর্ভুক্তিমূলক।
Leave a comment
Leave a comment
