অন্ধকার গলি কিংবা লোডশেডিংয়ে কাজে আসে মোবাইলের টর্চ। আবার অনেক ক্ষেত্রে মোবাইলের আলোয় অপারেশনের ঘটনার কথাও সামনে এসেছে। যা নিয়ে কম বিতর্কও নেই। তা বলে আস্ত ট্রেন ছুটল মোবাইলে থাকা টর্চের আলোয়? অবাক হচ্ছেন তো? অবাক হওয়ার মতোই ঘটনা। ঘটনাস্থল বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
বাংলাদেশের বহুল প্রচারিত সংবাদমাধ্যম ‘কালের কন্ঠে’ প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, শনিবার রাতে তিতাস কমিউটার ট্রেনটি মোবাইল ফোনের টর্চের আলোয় চালানো হয়। ঢাকা থেকে আখাউড় যাওয়ার সময় হঠাৎ করেই ইঞ্জিনে ত্রুটি ধরা পড়ে বলে যায়। নেমে আসে অন্ধকার। আর সেই সময় চালকের সহায় হয় মোবাইলে থাকা টর্চের আলো। যা দেখে কার্যত স্তম্ভিত ট্রেনের যাত্রীরা।
যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে সে দেশের সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, নির্ধারিত সময় থেকে অনেকটাই দেরিতে চলছিল ট্রেনটি। যাত্রীরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের তালশহর স্টেশন ট্রেনটি ছাড়ার পরেই যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে। সমস্যা দেখা যায় লোকোমোটিভে। ফলে আরও কমে যায় ট্রেনটির গতি।
এমনকী বারবার ট্রেনটিকে থামিয়ে দেওয়া হচ্ছিল বলেও দাবি যাত্রীদের। কিন্তু কারণটা কী স্পষ্ট ছিল না। ‘কালের কন্ঠ’কে যাত্রীরা জানান, বারবার ট্রেন দাঁড়িয়ে পড়ায় সময় নষ্ট হচ্ছিল। অনেকেই অস্থিরও হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু কেন এমন পরিস্থিতি তা স্পষ্ট ছিল না। কিন্তু পরে টর্চের আলোয় ট্রেন চালানোর ঘটনা শুনে তো অবাক, বলছেন যাত্রীরা।
জানা যায়, ত্রুটির ফলে লোকোমোটিভের হেডলাইট নষ্ট হয়ে যায়। সেই সময় অন্ধকার লাইন পেরতে মোবাইল ফোনের টর্চের আলো ভরসা হয়ে ওঠে। জানা যায়, বাংলাদেশের ওই ট্রেনে থাকা আধিকারিকরা নিজেদের মোবাইল ফোনের টর্চ লাইটের আলো জ্বালান। আর সেভাবেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশন পর্যন্ত ট্রেনটিকে নিয়ে আসেন। বিপদ এড়াতে বারবার বাজানো হয় ঘণ্টা!
সে দেশের সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, প্রায় ৮ কিলোমিটার পথ আসতে এক ঘণ্টার মতো সময় লাগে ট্রেনটির। পরে আখাউড়া থেকে আরেকটি ইঞ্জিন এসে ট্রেনটিকে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। একই সঙ্গে তৈরি হয় আতঙ্কও।
