ইরান ইজরায়েল সংঘাতে জড়িয়েই পড়ল আমেরিকা। ইরানে আমেরিকা হামলা চালাবে কি না, তা নিয়ে দু’সপ্তাহের ডেডলাইনের কথা জানিয়েছিল হোয়াইট হাউস। তার অপেক্ষা না করেই ইরানের তিন পরমাণু কেন্দ্রে হামলা চালাল আমেরিকা। হামলার কথা স্বীকারও করে নিয়েছে ইরানের অ্যাটমিক এনার্জি অর্গানাইজেশন। পাল্টা প্রত্যাঘাত শুরু করেছে তারাও। এমতাবস্থায় গোটা ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে নিচে রইল ১০টি উল্লেখযোগ্য বিষয়:-
১) ইরানের ফোরদো, নাতানজ ও ইসফাহানে অবস্থিত তিনটি পারমাণবিক কেন্দ্রে আমেরিকার সেনাবাহিনী হামলা চালিয়েছে। শক্তিশালী বি-২ বম্বার ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে আমেরিকা।
২) আমেরিকার হামলায় ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে এখন স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি ইরান। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার কর্পোরেশনের এক আধিকারিক জানান, আমেরিকা যেসমস্ত পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে তাতে কোনও তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছিল না।
৩) ইরানে বি-২ স্পিরিট স্টিলথ বম্বার ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। শত্রুর সামনে সম্পূর্ণভাবে অদৃশ্য হওয়ার ক্ষমতা রাখে এই বোমারু বিমান। যার প্রতি ইউনিটেরই দাম ২ বিলিয়ন ডলার।
৪) হামলার পর ফের নতুন করে ইরানকে হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। এরপরেও যদি ইরান শান্তি বজায় না রাখে, তাহলে আগামিদিনে আরও ধ্বংসাত্মক হামলা চালানো হবে বলে হুঙ্কার মার্কিন প্রেসিডেন্টের।
৫) ইরানে হামলার পর ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথাও হয়েছে ট্রাম্পের। ইরানের কোমর ভেঙে দিতে ইজরায়েলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করার বার্তা ট্রাম্পের। দুই দেশের মধ্যে এমন সহাবস্থান আগে গোটা বিশ্ব দেখেনি বলে জানান ট্রাম্প।
৬) চুপ করে বসে নেই ইরানও। প্রত্যাঘাতে তেহরানের তরফে কোনও খামতি রাখা হবে না বলেই হুঙ্কার ইরানের। আমেরিকাকে হামলার ফল ভুগতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
৭) নাসাকে উদ্ধৃত করে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, নাসার ফায়ার ইনফরমেশন ফর রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (FIRMS) থেকে প্রাপ্ত তথ্যে রবিবার সকালে মার্কিন হামলার প্রায় ৩০ মিনিট আগে ইরানের ফোর্ডো পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছে দু’ধরণের তাপ প্রবণতা লক্ষ্য করা গিয়েছিল।
৮) গত সপ্তাহের প্রথম দিকেই আমেরিকাকে সাবধান করে দিয়েছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেইনি। আমেরিকা যুদ্ধে জড়ালে ইরান অলআউট আক্রমণের পথে হাঁটবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন খামেইনি।
৯) অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইজরায়েলি হামলায় এখনও পর্যন্ত ইরানে ৮৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। জখম হয়েছে ৩ হাজার ৩৯৬ জন। মৃতদের মধ্যে ২১৫ জন সেনা জওয়ান রয়েছে বলে দাবি ওয়াশিংটনের।
১০) ইরান ও ইজরায়েলের সংঘাত রুখতে পশ্চিমী দেশগুলির সব প্রচেষ্টাই বিশ বাঁও জলে। ইরানকে পারণামিক অস্ত্রভাণ্ডার গড়ে তুলতে দিতে চায় না ইজরায়েল। গত ১৩ জুন তাই তেহরানে হামলা চালায় তেল আভিভ। ইরানের দাবি, তাদের এই পারমাণবিক সশক্তিকরণ কেবল শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা হবে।
