কালীগঞ্জের উপনির্বাচনে রাজ্যে ক্ষমতার বিন্যাসে বদল হবে না। এমন কি, রাজ্য রাজনীতির বাঁধা গতেও কোনও পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা নেই। কিন্তু কালীগঞ্জের ফল গভীর চিন্তার রসদ দিয়ে গেল বিজেপি শিবিরকে। হিন্দু ভোটের তত্ত্ব কি আদৌ বিধানসভায় ডিভিডেন্ড দেবে? সর্বশেষ হিসেব, ৪৯,৭৫৫ ভোটে জিতে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী আলিফা আহমেদ। বহু পিছিয়ে দ্বিতীয় বিজেপি।
কালীগঞ্জ আসনে যে জয় আসবে না, তা বিজেপি নেতৃত্বের অজানা ছিল না। কিন্তু ভোটেরবাক্স খুললে দেখা গেল, তৃণমূল শুধু সংখ্যালঘু ভোট নয়, সব ধর্মের ভোটই ঢেলে পেয়েছে। এর জেরে ব্যবধান বেড়েছে মেয়ের। গত বিধানসভায় যেখানে আলিফার বাবা নাসিরুদ্দিন আহমেদ ওরফে লাল জিতেছিলেন প্রায় ৪৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে। তৃণমূল যে সবার ভোট পেয়েছে তা স্পষ্ট দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের টুইটে। তিনি নির্দিষ্ট ভাবে লিখেছেন, ‘এলাকার সব ধর্ম, সব বর্ণ, সব জাতি এবং সর্বস্তরের মানুষ তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আমাদের বিপুল ভাবে আশীর্বাদ করেছেন আমি নতমস্তকে তাঁদের আমার কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’ প্রাথমিক হিসাব থেকে বোঝা যাচ্ছে, শুভেন্দুর হিন্দু ভোটেও থাবা বসিয়েছে তৃণমূল। পাশাপাশি, বাম-কংগ্রেসও পেয়েছে কিছু। ফলে বিজেপি এ বারও ভোট ভাগ আটকাতে পারেনি।
তিনি যে জিতবেনই তা এক প্রকার নিশ্চিত ছিল। চ্যালেঞ্জ ছিল ব্যবধান বাড়ানোর। কর্পোরেট ঘরানায় অভ্যস্ত আলিফা সেই কাজ সফল ভাবে সেরেছেন। জয় নিশ্চিত হওয়ার পর আলিফা বলেন, “মানুষকে ধন্যবাদ। মানুষ উন্নয়নের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। সাম্প্রদায়িক রাজনীতি কালীগঞ্জের মানুষ ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছেন। বাংলাতেও এই রাজনীতির কোনও ঠাঁই নেই।”
ভোটের এই ফলই তৃণমূলকে উৎসাহ যোগাচ্ছে শুভেন্দুর ‘হিন্দু লাইন’কে নিশানা করতে। তৃণমূল আইটি সেলের প্রধান দেবাংশু ভট্টাচার্য যেমন ভোটের রেজাল্ট বিশ্লেষণ করে দাবি করেছেন, ‘বাম-কংগ্রেস তাদের ভোট শতাংশ মোটামুটি ধরে রাখলেও, বিজেপির হিন্দু ভোটের একটা বড় অংশ তৃণমূলে চলে এসেছে। শুভেন্দু অধিকারীর উগ্র ও বিকৃত হিন্দুত্ববাদ এই বাংলার শান্তিপ্রিয় সনাতনী হিন্দুরা সগর্বে প্রত্যাখ্যান করলেন।’ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দুও কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন, সব হিন্দুরা তাঁদের ভোটে দেননি। তাহলে কি শুভেন্দুর ‘হিন্দু ভোট’-এর লাইন ব্যর্থ? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনুমান, মানুষ বিজেপির সাম্প্রদায়িক নীতিকে গ্রহণ করার কোনও কারণ দেখেননি। তারা তৃণমূল তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরেই আস্থা রেখেছেন। কালীগঞ্জে উপনির্বাচনের ফল সে কথাই বলে।
