সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
ফের রণক্ষেত্র বিধানসভার অধিবেশন। বিজেপি বিধায়ক অশোক লাহিড়ি তাঁর গতদিনের বক্তব্য কেন বিধানসভার কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে তা জানতে চান। তা নিয়ে ট্রেজারি বেঞ্চের পক্ষ থেকে মন্ত্রী তথা বিধায়ক চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন “আপনারা সরকারপক্ষের বক্তব্য শুনবেন না অথচ নিয়ম করে রোজ নিজেদের কথা বলে কক্ষ ত্যাগ করবেন তা হয় না। তাই বাতিল করা হয়েছে।” বস্তুত গত দিনের অধিবেশনে এই সিদ্ধান্তের কথা অধিবেশনেই জানিয়েছিলেন অধ্যক্ষ। চন্দ্রিমার এই বক্তব্যের পরই অধিবেশন কক্ষে হুলস্থূল বেধে যায়। অধ্যক্ষের আসনের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি কক্ষের মাইক ও টেবিল ভাঙচুর করা হয়।
বিজেপির চার বিধায়ক মনোজ ওরাও,দীপক বর্মন, অগ্নিমিত্রা পাল ও শংকর ঘোষকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেন অধ্যক্ষ। একইসঙ্গে মার্শালকে ডেকে
সাসপেন্ড হওয়া বিধায়কদের কক্ষের বাইরে পাঠানোর নির্দেশ দেন অধ্যক্ষ। সাসপেনশন ও মার্শালকে ডাকা নিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু আধিকারির উপস্থিতিতেই হয় ধুন্ধুমার পরিস্থিতি। মার্শালের সঙ্গে অধিবেশন কক্ষেই ধস্তাধস্তি বিজেপি বিধায়কদের। ধ্বস্তাধ্বস্তির জেরে কক্ষের মধ্যেই পড়ে যান বিজেপি পরিষদীয় দলের মুখ্য সচেতক শঙ্কর ঘোষ। তাঁকে মার্শাল দিয়ে টেনে হিঁচড়ে কক্ষের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। অধিবেশন কক্ষে একাই বসে ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারি। এদিকে অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দেন ” কারা ভাঙচুর করেছেন তা নিয়ে তদন্ত হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পরে ভারতীয় জনতা পার্টির বিধায়করা ফের অধিবেশন কক্ষে ফিরলে ক্ষুব্ধ অধ্যক্ষের নির্দেশ “দরজা বন্ধ করে দিতে হবে। কেউ যেন ভেতরে আর না আসেন”। ফের অধিবেশন কক্ষে শুরু হয় বিরোধী বিধায়কদের স্লোগান।
