গোটা বিশ্বের নজর এখন তাঁর দিকে। রয়েছেন আমেরিকা এবং ইজরায়েলের ‘হিটলিস্টে’। তিনি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। বর্তমানে তেহরানের গোপন একটি বাঙ্কারে ঘাঁটি গেড়েছেন তিনি। আর সেখান থেকেই যুদ্ধের ঘুঁটি সাজাচ্ছেন খামেনেই। কড়া বার্তা দিচ্ছেন আমেরিকা-ইজরায়েলকেও। কিন্তু কখনও ভাল করে খেয়াল করেছেন খামেনেইকে? তাহলে নিশ্চয় নজর পড়তে পারে তাঁর হাতের দিকে।
গুগল করলেই খামেনেইয়ের একাধিক ছবি-ভিডিও দেখতে পাবেন। সেগুলিতে যদি নজর রাখেন তাহলে অবশ্যই দেখা যাবে একটি হাতই সক্রিয় রয়েছে। আরেকটি হাত পোশাকে আড়ালেই রাখেন সে দেশের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু। কিন্তু কেন? এর পিছনে থাকা আসল কারণ জানেন?
আল আরাবিয়ার একটি প্রতিবেদনকে উল্লেখ করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, ১৯৮১ সালের ২৭ জুন রাজধানী তেহরানের আবুজার মসজিদে বক্তব্য রাখছিলেন আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। সেই সময় এক যুবক তাঁর কাছে একটি টেপ রেকর্ডার দেয়, আর সেটির সুইচ টিপতেই প্রবল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটা ছিল যে দূরে ছিটকে যান খামেনেই।
জীবন-মরণ লড়াইয়ে প্রাণ রক্ষা হয় খামেনেইয়ের। রিপোর্ট অনুযায়ী, ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় গুরুতর ভাবে আহত হন খামেনেই। স্নায়ু এবং ফুসফুস ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে ডান হাত ব্যাপক ভাবে ক্ষতি হয়। শরীরের ডান দিকে ঢুকে যায় বোমার অংশ। একটা সময় চিকিৎসকরা সব আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। এমনকী মৃত বলে ঘোষণা করাই বাকি ছিল। কিন্তু বাজি রেখেই খামেনেইয়ের শরীরে বেশ কিছু অস্ত্রোপচার করা হয়।
আর এই জীবন-মরণ লড়াইয়ে প্রাণ রক্ষা হয় খামেনেইয়ের। যদিও প্রথমদিকে কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলে ছিলেন তিনি। ধীরে ধীরে শরীরে শক্তি আসে। তবে একটি হাতে শক্তি হারায়। সে দেশের চিকিৎসকরা চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ, এরপর থেকে একটি হাত দিয়েই যাবতীয় কাজ সারেন খামেনেই। আরেকটি হাত জামার মধ্যেই আড়ালে রাখতে স্বস্তি পান তিনি।
