দুই দলিতকে অর্ধেক মাথা কামিয়ে রাস্তায় প্রকাশ্যে হামাগুড়ি দেওয়ানোর অভিযোগ। শুধু তাই নয়, ওই দু’জনকে নর্দমার নোংরা জলও খাওয়ানো হয় বলে অভিযোগ। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে ওড়িশার গঞ্জাম জেলার খাড়িগুমা গ্রামে। স্থানীয় থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে অভিযোগ। আর এরপরেই ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও কারা যুক্ত সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিজেপি শাসিত রাজ্যে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দুঃখপ্রকাশ করেছেন রাহুল গান্ধি। ঘটনায় অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। লোকসভার বিরোধী দলনেতার দাবি, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে এই ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। ঘৃণা এবং বিভেদের রাজনীতির কারণেই তা বারবার ঘটছে বলেও দাবি কংগ্রেস সাংসদের। শুধু তাই নয়, ওড়িশায় দলিত, আদিবাসী এবং মহিলাদের উপর অত্যাচারের ঘটনা উদ্বেগজনক জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে বলেও দাবি।
রাহুল গান্ধির কথায়, দলিতদের মর্যাদাকে পদদলিত করা ঘটনা বাবা সাহেবের সংবিধানের উপর আক্রমণ। সাম্য, ন্যায়বিচার এবং মানবতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলেও তোপ। ইতিমধ্যে ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। যা একেবারে শিউরে ওঠার মতো। জানা গিয়েছে, দুজন দলিত ব্যক্তি তিনটি গোরু কিনে ফিরছিলেন। পারিবারিক বিয়েতে সেগুলি যৌতুক হিসাবে দিতেই সেগুলি কিনে ফিরছিলেন ওই দুই ব্যক্তি। সেই সময় বেশ কয়েকজন ব্যক্তি তাদের পথ আটকায় এবং মোটা টাকা দাবি করে। এমনকী দুই দলিত ব্যক্তি গোরু পাচার করছিল বলেও অভিযোগ জানাতে শুরু করে। এই বিষয়ে প্রতিবাদ জানাতেই শুরু হয় অকথ্য অত্যাচার।
এমনকী দুই কিলোমিটার পথ তাদের হামাগুড়ি দিয়ে যেতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ। ড্রেনের নোংরা জল, ঘাস জোর করে খেতে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ। শুধু তাই নয়, স্থানীয় সেলুনে নিয়ে গিয়ে অর্ধেক মাথার চুল পর্যন্ত কেটে দেওয়া হয়। অকথ্য অত্যাচারের পর কোনও রকমে অভিযুক্তদের কাছ থেকে নিজেদের বাঁচাতে সক্ষম হয় ওই দুজন। পরে ধারাকোট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হয়েছে ধরপাকড়। ঘটনার পর গুরুতর আহত দুই ব্যক্তিকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
