সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
সোমবার বিধানসভায় হুলস্থুলকাণ্ডের জেরে সিঙ্গুর আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে অভিযুক্ত বিধায়কদের বেতন কাটার ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন রাজ্য বিধানসভার অধ্যক্ষ তথা আইনজীবী বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। মঙ্গলবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে অধ্যক্ষকে উদ্দেশ্য করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কালই আমি শুনেছি বিধানসভার কয়েকজন নিরাপত্তা কর্মী আহত হয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে নাকি এফআইআর করা হয়েছে! সিঙ্গুর আন্দোলনের সময় বিধায়কদের অনেকের বেতন কাটা হয়েছিল। আমি বলছি না যে আপনি বেতন কাটুন। কিন্তু আপনি আইনজীবী মানুষ, আইন অনেক বেশি জানেন। আপনি নিশ্চয়ই একটা কিছু ব্যবস্থা করবেন।”
এ দিন বিধানসভায় এসে আহত নিরাপত্তাকর্মীদের বিষয়ে খোঁজখবর নেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবারের ঘটনা নিয়ে আলাদা ভাবে কথাও বলেন বিধানসভার অধ্যক্ষের সঙ্গে। আহত নিরাপত্তা কর্মীদের চিকিৎসা কেমন চলছে সে ব্যাপারেও কথা বলেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যাঁরা আহত হয়েছেন আমি ইশ্বরের কাছে প্রার্থনা করব তাঁরা যেন তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠেন।”
উল্লেখযোগ্য ২০০৬ সালে রাজ্যে সিঙ্গুর আন্দোলনের সময় আজ যারা শাসকের ভূমিকায় সেই তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়করা বিধানসভা ভাঙচুরে অভিযুক্ত হয়েছিলেন। সেই ঘটনায় তৎকালীন বিরোধী দলে থাকা বিধায়কদের অনেকেরই সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের দায়ে বেতন কাটা হয়েছিল। সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সোমবারের ঘটনায় বিধানসভায় যে সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর বা নষ্ট করা হয়েছে সেক্ষেত্রে সিঙ্গুর আন্দোলনের ঘটনার কথা এদিন বিধানসভায় মনে করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও শাস্তি কি হতে পারে তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বিধানসভার অধ্যক্ষ।
তবে শুধু শাস্তির বিধান নয়, ভাল কাজের জন্য পুরস্কারের সুপারিশও করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিধানসভা অধ্যক্ষের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, “অধ্যক্ষকে অনুরোধ করব, বিধানসভায় যারা প্রতিদিন আসেন তাদের পুরষ্কৃত করুন। যাঁর অ্যাটেনডেন্স বেশি হবে তাঁকে পুরস্কৃত করার অনুরোধ করব। এতে একটা কম্পিটিশন বাড়বে। এর মধ্যে দিয়ে হাউজে অ্যাটেনডেন্স বাড়বে। অসুস্থ থাকতে পারেন কেউ। সেটা ধরবেন না।”
