রাজ্যের স্কুলগুলির গ্রন্থাগারে এবার থেকে রাখা হবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বই। স্কুলগুলিকে দেওয়া রাজ্য সরকারের অনুদানের টাকায় কেনা হবে মমতার লেখা ‘মা’, ‘কথাঞ্জলি’-সহ নানা বই। সরকারি টাকায় কেন ওই সমস্ত বই কেনা হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে শিক্ষামহলে। মঙ্গলবার সেনিয়েই এক্স পোস্টে গর্জে উঠলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। স্কুলের লাইব্রেরিতেও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে এবার দুর্নীতির অভিযোগ আনলেন সুকান্ত।
স্কুল শিক্ষা দফতরের তরফে মোট ৫১৫টি বইয়ের যে তালিকা পাঠানো হয়েছে, তাতে ১৯টি বই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বই রয়েছে বলে সূত্রের খবর। প্রায় ২০২৬টি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের স্কুলকে মোট ২০ কোটি ২৬ লক্ষ টাকা অনুদান দিয়েছে রাজ্য সরকার। প্রত্যেকটি স্কুল ১ লক্ষ টাকা করে পেয়েছে। সেই টাকাতেই ওই বইগুলি কিনতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে সুকান্ত মজুমদার এক্স পোস্টে লেখেন, “রাজ্য সরকারের দুর্নীতির ধারায় নবতম সংযোজন লাইব্রেরি দুর্নীতি। ২০.২৬ কোটির দুর্নীতির আড়ালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বই চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে পড়ুয়াদের উপর। মমতার লেখা বইগুলি আদৌও বই বলার যোগ্য? নাকি শুধুই আত্মপ্রচারের প্যামফ্লেট? ছাত্ররা ওই বই পড়ে কি বাংলা সাহিত্য, ইতিহাস শিখবে? নাকি সোজাসুজি তৃণমূলের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থর চেষ্টা চলছে।”
সুকান্তর অভিযোগ, “জনগণের টাকায় নিজের লেখা বই কিনিয়ে কাটমানির আদর্শ উদাহরণ দিচ্ছেন মমতা। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও চাকরি বিক্রির মতো দুর্নীতিতে গোটা রাজ্য যখন জর্জরিত, তখন নতুন দুর্নীতি এসেছে বাজারে। শিক্ষার মানোন্নয়ন কি একেই বলে? বই কেনার নামে রাজকোষ লুট করা হচ্ছে। পড়ুয়াদের প্রতি চরম অসম্মানের। আর কোন রাজ্যে পড়ুয়াদের মুখ্যমন্ত্রীর বই পড়তে বাধ্য করা হয়? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি বইয়ের স্বীকৃতি চান, তাহলে উনি সাহিত্য অ্যাকাডেমিতে গিয়ে আবেদন করুন। স্কুলের গ্রন্থাগারের অপব্যবহার কেন করা হবে?”
