জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচনের দাবি করে বসল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় একথা বলেন জামায়াতের নেতা হামিদুর রহমান আযাদ।প্রথম আলোর রিপোর্ট অনুযায়ী দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল জানিয়েছেন যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন যদি নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে হয়, তাহলে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে – এ কথা তাঁরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে জানিয়েছেন।
একদিন আগেই মঙ্গলবার দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ফিরে পেয়েছে জামায়াতে ইসলামী। নির্বাচন কমিশন থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ২০১৩ সালের ১ আগস্ট জামায়াতে ইসলামীর রেজিস্ট্রেশন বাতিল ও অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছিল হাইকোর্ট। এরপর ২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবর জামায়াতে ইসলামীর রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে বিজ্ঞপ্তি বা নোটিশ জারি করে নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবারের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রেজিস্ট্রেশন ও দলীয় প্রতীক পুনর্বহাল করা হল৷
নিবন্ধন ও প্রতীক ফিরে পাওয়ার বিষয়ে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন যে এতেই প্রমাণ হল যে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকার অন্যায়ভাবে জামায়াতের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করেছে।পরবর্তীতে দাড়িপাল্লা দলীয় প্রতীকও কেড়ে নেওয়া হয়। তখন চরম অন্যায় করা হয়েছিল। আমাদের অধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে।
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আগে স্থানীয় নির্বাচনের যুক্তিতে বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় যদি স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়, তাহলে এটা অনেক বেশি ফেয়ার ও গ্রহণযোগ্য হবে। এতে জনগণের সঠিক প্রতিনিধি আসবে। আর স্থানীয় সরকার নির্বাচন যদি দলীয় সরকারের অধীনে হয়, তা হলে দেখা যায় দলীয় প্রার্থীদেরকে চেয়ারম্যান বা মেম্বার করা জন্য দলীয় প্রভাব বিস্তার করা হয় এবং সরকার পুরো প্রক্রিয়া কাজে লাগিয়ে নির্বাচনকে প্রভাবিত করে দলীয় প্রার্থীকে জিতিয়ে আনে। এতে জনমতের প্রতিফলন হয় না। পছন্দের প্রার্থী নির্বাচিত হয়। সে কারণে আমরা বলেছি, এটা যদি নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের হয়, এটা ফেয়ায় হবে, গ্রহণ যোগ্য হবে। সেটা আমরা দাবি করেছি।”
আগামী নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রতীক নিয়েই নির্বাচনে অংশ নেবে বলে জানান হামিদুর রহমান আযাদ।
Leave a comment
Leave a comment
