নিঃশব্দ বিপ্লব নাম সভার। বক্তা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের সাংসদ এলাকার উন্নয়নের ফিরিস্তি দেওয়ার কর্মসূচি হয়ে উঠল বিজেপির ভোটের ফলের ভবিষ্যতবাণী। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে বিজেপি ৫০-টিরও কম আসন পাবে। নিজের লোকসভা কেন্দ্রের মানুষের কাছে আশীর্বাদ চাইলেন, ২০২৯ সালের ভোটে যেন তিনি ৮ লক্ষ ভোটের ব্যবধানে জিততে পারেন। ২০২৪ সালের ভোটে ব্যবধান ছিল ৭ লক্ষ ১০ হাজার, রেকর্ড। পাশাপাশি তীব্র আক্রমণ শানালেন বিজেপিকে। জানিয়ে দিলেন, বিজেপি যতই ফন্দি আটুক, আগামী বার আরও বড় করে সেবাশ্রয়, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার হবে।
বুধবার সাতগাছিয়ায় সভা করেন অভিষেক। উপলক্ষ, কী কী কাজ করেছেন সাংসদ, তার হিসেব মানুষকে জানানো। শুধু মুখে বলাই নয়, ‘নিঃশব্দ বিপ্লব’ নামাঙ্কিত বই ছাপিয়ে তা বিলি করা হল সভা চত্বরে। সাংসদ জানালেন, বিজেপি বিভিন্ন ভাবে তাঁর এবং তাঁর সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্প গুলি বন্ধ করে দিতে চায়। কিন্তু মা-মাটি-মানুষের সরকার যতদিন থাকবে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে শুরু করে সেবাশ্রয়— অভিষেক বললেন, “সব পাবেন!” এ বার সেবাশ্রয় আরও বড় আকারে করা হবে বলে জানিয়ে দিলেন। এর পরেই সরাসরি চলে গেলেন বিজেপিকে আক্রমণে। কদিন আগে নিজের সংসদীয় কেন্দ্রে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা নিয়ে অভিষেক বলেন, “মহিলাদের তাড়া খেয়ে পালিয়েছে।” তাঁর চ্যালেঞ্জ, যে বিজেপি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার তুলে দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে, সেই দলের যে কোনও একটি রাজ্যের সরকার তার রাজ্যে মহিলাদের দেড় হাজার টাকা করে দিন… বিজেপি এটা করতে পারলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।” নিজের কেন্দ্রের মানুষকে বললেন, “আমার জন্ম দক্ষিণ কলকাতায় ঠিকই কিন্তু মরতে চাই এই মাটিতে।”
জাতীয় সুরক্ষা নিয়ে মোদী সরকারকে পাঁচ প্রশ্ন করেছেন অভিষেক। তৃণমূলের আইটি সেল নিয়মিত তার কাউন্টডাউন প্রকাশ করছে, উত্তরহীন কতটা সময়! এই প্রসঙ্গে মোদী সরকারকে সরাসরি কাঠগড়ায় তোলেন অভিষেক। তাঁর কথা, পহেলগামের সন্ত্রাসবাদীরা এখনও ধরা পড়ল না কেন? আরজি কর কাণ্ডের সময়ের কথা মনে করিয়ে অভিষেক বলেন, “আরজি করের দায় নিয়ে যখন বিনীত গোয়েলকে পদত্যাগ করতে হয়েছে তখন, পহেলগামের ঘটনার দায় নিয়ে কেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং আইবি প্রধান তপন ডেকা ইস্তফা দেবেন না?” অভিষেকের দাবি, ডেকার পদের মেয়াদ শেষ হয়েছে পহেলগামকাণ্ডের পর। তাঁকে বরখাস্ত না করে তাঁকে ওই পদে এক্সটেনশন দেওয়া হয়েছে। ডবল ইঞ্জিন সরকারের রাজ্যে কী কী ঘটছে তা নিয়েও বিজেপিকে কটাক্ষ করেন। শুভেন্দুকে বিঁধে বলেন, “দাদা থেকে কাকু, দাদু হয়ে যাবে, সে দিনও মানুষের মনে তৃণমূলের প্রতি ভালবাসাই থাকবে।” মহেশতলা কাণ্ডের সময় সেখানে গিয়েছিলেন বঙ্গ বিজেপির সভাপতি সকান্ত মজুমদার। সেখানে গিয়ে সুকান্ত সরাসরি নিশানা করেছেন স্থানীয় সাংসদ অভিষেকে। তার জবাবে তৃণমূলের ‘নম্বর টু’-র কটাক্ষ, “এত দিন যত গুলো ভোটে যত ব্যবধানে জিতেছেন, সেটা যোগ করলেও আমার এবারের মার্জিনের ধারেকাছে আসতে পারবেন না।” প্রসঙ্গত, গত লোকসভায় ডায়মন্ড হারবারে অভিষেক জিতেছেন ৭ লক্ষ ১০ হাজার ভোটে। যা রেকর্ড। অভিষেক দাবি করলেন, কেন্দ্রে মোদীর সরকার বেশি দিন টিকবে না। তাঁর যুক্তি, এই সরকার দুর্নীতিগ্রস্ত। এর পর খানিক মাঝপথেই নিজের বক্তব্য থামিয়ে দেন অভিষেক। তড়িঘড়ি বক্তৃতা শেষ করেন জয় বাংলা স্লোগানে।
