কসবার এক কলেজে এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় রাজ্য। তাতে রাজনীতির রং লাগিয়েছে ধৃতের পরিচয়। সমাজমাধ্যমে চোখ রাখলেই তৃণমূলের হোমরাচোমরাদের সঙ্গে তাঁর ছবি বেরিয়ে পড়ছে। প্রাণপণে সেই ঝড় আটকাতে ব্যস্ত তৃণমূল। রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী তথা মহিলা মুখ শশী পাঁজা এবং টিএমসিপির সভাপতি তৃণাঙ্কুরকে দিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করাতে হয়েছে। জাতীয় সংবাদ চ্যানেলগুলোতেও লড়ে যাচ্ছেন শশী। তৃণমূলের দাবি, অভিযোগ পাওয়ার পরই পুলিশ দ্রুত অভিযুক্তদের ধরেছে। এ বার আইন কঠোর শাস্তি দিক। যদিও বিরোধীরা তা মানতে নারাজ। তাদের পাল্টা দাবি, তৃণমূলের অপসংস্কৃতির জন্যেই আজ যুবসমাজের এই অবস্থা। তাই সবচেয়ে আগে দরকার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিদায়। এ দিকে ঘটনার গভীরতা বুঝে মুখ্যমন্ত্রী দিঘা থেকে তড়িঘড়ি কলকাতা ফেরেন। তাঁর এমনিতে শনিবার ফেরার কথা ছিল।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই তৃণমূল দায় এড়াতে শুরু করে। কিন্তু পর পর তাবড় নেতাদের সঙ্গে অভিযুক্তের ছবি তৃণমূলকে কৌশল বদলাতে বাধ্য করে। টিএমসিপি-র সভাপতি তৃণাঙ্কুর মেনে নিয়েছেন, ওই অভিযুক্তের সঙ্গে তাঁর সংগঠনের যোগাযোগ ছিল। তিনি বলেন, “হাত দেখতে তো পারি না। ২০১৯ সালে কী করে জানব ২০২৫ সালে সে এই কাণ্ড ঘটাবে? সে ধর্ষণ করেছে। সেটা দিয়েই তাঁর বিচার হোক। ধর্ষণ করলে শাস্তি পেতে হবে।” কুণাল ঘোষের সাফ কথা, যে সিপিএম সুশান্ত ঘোষ আর বংশগোপালের কীর্তিতে ভরা, তারা আবার ধর্ষণ নিয়ে মুখ খোলে কী করে? শশীর দাবি, এই ঘটনার কথা জানাজানি হওয়ার আগেই পুলিশ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে। তাঁর প্রশ্ন, এই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে যাতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যায়, সে জন্য একটি আইন তৈরি করেছে মমতার সরকার। সেই আইনের নাম অপরাজিতা। কে সেটা আটকে রেখেছে? শশীর দাবি, তৃণমূল অভিযোগ ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিয়েছে। আর গুজরাতে বিজেপি ধর্ষণ করে জেলখাটারা মুক্তি পেলে মালা পরিয়েছে।
তবে, শশী পাঁজারা যতই বলার চেষ্টা করুন, নারী দেহ রাজনীতির যুদ্ধক্ষেত্র নয়, ছাড়তে রাজি নয় বিরোধীরা। বামেরা এই ঘটনার সঙ্গে জুড়ে দিচ্ছে আরজি করের ঘটনা। সেখানেও প্রশাসনের মদতে এক সিভিক ভলান্টিয়ারের অবাধ গতিবিধি ছিল হাসপাতালের অন্দরে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই সে ধর্ষণ করে খুব করে ওই তরুণীকে। এসএফআইয়ের দাবি, এ ক্ষেত্রেও সেই প্রশাসনের কাছের লোকই রাতের অন্ধকারে কলেজের মধ্যে এই কাণ্ড ঘটাল। শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, পুলিশের মদতে তৃণমূলের স্থানীয় নেতাদের এমন দাপট বেড়েছে যে আকছার এ রকম কাণ্ড ঘটে যাচ্ছে। মমতার সরকারকে নারীবিরোধী সরকার বলেও তোপ দাগেন শুভেন্দু।
