পাকিস্তানে সেনা কনভয়ে হামলার ঘটনায় ভারতের দিকে আঙুল তোলা মাত্র কড়া বার্তা দিল ভারতের বিদেশমন্ত্রক। একই সঙ্গে ইসলামাবাদের আনা অভিযোগও খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। শনিবার খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে উত্তর ওয়াজিরিস্তানে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আর সেই ঘটনায় ১৩ জন পাকসেনার মৃত্যু হয়। গুরুতর জখম হন অন্তত ২৪ জন। আর এই ঘটনার দায় ভারতের ঘাড়ে চাপায় ইসলামাবাদ। যদিও ফের একবার বিশ্বের সামনে খুলে গিয়েছে পাকিস্তানের মুখোশ। ধোপে টেকেনি এহেন অভিযোগ।
ইতিমধ্যে ঘটনার দায় নিয়েছে তেহরিক-ই-তালিবান নিয়ন্ত্রিত হাফিজ গুল বাহাদুর গোষ্ঠী। বিস্ফোরণের দায় নিয়েছে এই সংগঠন। তবে ভারতের দিকে আঙুল তোলার পরেই বিদেশমন্ত্রকের তরফে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে। যেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, পাকিস্তান সেনার তরফে দেওয়া একটি বিবৃতি আমরা দেখেছি। যেখানে গত ২৮ জুন ওয়াজিরিস্তানে হওয়া হামলার ঘটনায় ভারতের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলা হয়েছে। বিদেশমন্ত্রক এহেন বিবৃতি সম্পূর্ণভাবে খারিজ করছে বলে সমাজমাধ্যম এক্সে (আগে-টুইটার) পোস্ট করা বার্তায় জানানো হয়েছে।
বলে রাখা প্রয়োজন, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে উত্তর ওয়াজিরিস্তানে পাকসেনার কনভয়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আর এই ঘটনা সুপরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। বিবৃতিতে পাকসেনার দাবি, বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি সেনার গাড়িতে ধাক্কা মারে। ধাক্কার সঙ্গে সঙ্গে প্রচণ্ড বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আর সেই ঘটনায় ভারতের মদত আছে বলে দাবি করা হয়। এহেন বার্তার কয়েকঘন্টার মধ্যেই জবাব দিল নয়াদিল্লি।
শুধু তাই নয়, পাকিস্তানের এহেন দাবি যে সম্পূর্ণ মিথ্যা তা প্রমাণ হয়ে যায় হাফিজ গুল বাহাদুর গোষ্ঠীর দেওয়া বার্তার পরেই। ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনার দায় নিয়েছে এই সংগঠন। বলে রাখা প্রয়োজন, গত কয়েকমাসে পাকিস্তানের মাটিতে একের পর এক জঙ্গি নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ ভাবে খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বালুচিস্তান প্রদেশে একের পর এক সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের ঘটনা ঘটেছে। কখনও সেনা কনভয়ে হামলা করা হয়েছে আবার কখনও জনবসতি এলাকাকে টার্গেট করা হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ঘটনার দায় নিয়েছে তেহরিক-ই-তালিবান নিয়ন্ত্রিত হাফিজ গুল বাহাদুর গোষ্ঠী। এরসঙ্গেই বালুচ বিদ্রোহীদের বড় প্রভাব রয়েছে বালুচিস্তান প্রদেশে। কার্যত গৃহযুদ্ধে জেরবার পাকিস্তান।
