বলিউডে তিনি মিস্টার পারফেকশনিস্ট নামেই পরিচিত। তিনি আমির খান। তবে তাঁর বৈবাহিক জীবন যে সবসময় খুব ‘পারফেক্ট’ চলেছে তা নয়। মাত্র ২১ বছর বয়সেই গাঁটছড়া বেঁধেছিলেন রিনা দত্তের সঙ্গে। পরিবারের থেকে লুকিয়ে, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার কিছু দিনের মধ্যেই আইনি বিয়ে সারেন আমির-রিনা। কিন্তু তারপরেই নাকি হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন আমির, আর এর নেপথ্যে নাকি ছিল পাক ক্রিকেটার জাভেদ মিয়াঁদাদের হাত? সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কোন অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন তিনি?
আমির ও রিনা ছিলেন একে অপরের প্রতিবেশী। তখনই প্রথম আলাপ তাঁদের, যা অল্প দিনের মধ্যেই ভালবাসায় পরিণত হয়। কিন্তু তাঁদের প্রেমের কথা যখন রিনা দত্তর বাড়ির লোকজন জানতে পারেন, জারি হয় নিষেধাজ্ঞা। অভিনেতার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতে পড়ে বাধা। স্বাভাবিকভাবেই পরিস্থিতি জটিল হয়। কিন্তু তাতে কি প্রেম থেমে থাকে? একে অপরকে হারিয়ে ফেলার ভয়ে, দু’জনেই তাঁরা লুকিয়ে আইনি বিয়ে সেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন। ২১ বছর বয়স হওয়ার অপেক্ষা করেন আমির। ১৪ মার্চ, ২১ বছর হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই সারেন বিয়ে।
সম্প্রতি ‘লল্লনটপ’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা সেই স্মৃতি হাতড়ে বলেন, রিনার সঙ্গে তাঁর বিয়ের দিন নাকি একেবারে ‘ভেস্তে’ দিয়েছিলেন পাক ক্রিকেটার জাভেদ মিয়াঁদাদ। কীভাবে? আমিরের কথায়, বিয়ের পর তাঁরা দু’জনেই বাড়ি ফিরতে বেশ ভয়ই পাচ্ছিলেন, কারণ প্রশ্ন উঠবেই ‘এতক্ষণ কোথায় ছিলাম’! কিন্তু সৌভাগ্যবশত সেদিনই ছিল ভারত-পাক ক্রিকেট ম্যাচ এবং বাড়ির সকলেই টানটান ম্যাচে এমন বুঁদ ছিলেন, যে আমির ও রিনার অনুপস্থিতি কারও নজরেই পড়েনি। কিন্তু সেই ম্যাচই নাকি হতাশাগ্রস্ত করে তাঁকে।
অভিনেতার কথায়, ‘ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ছিল। সেই ম্যাচটা যেখানে জাভেদ মিয়াঁদাদ শেষ বলে ছক্কা হাঁকান। আমরা এমনিই জিতছিলাম, তাই কারও মনেই হয়নি যে আমরা এতক্ষণ ধরে বাড়িতে নেই কেন। আমিও বাড়ি ফিরে বাকিদের সঙ্গে ক্রিকেট দেখতে বসে পড়ি, কিন্তু জাভেদের ছক্কা সবটা নষ্ট করে দেয়। পরে একবার ওঁর সঙ্গে এক বিমানে দেখা হলে আমি বলি, ‘জাভেদ ভাই আপনি ঠিক করেননি। আপনি আমার বিয়ে বরবাদ করে দিয়েছিলেন’। উনি জিজ্ঞেস করেন, ‘কী করে’? আমি বললাম, ‘ওইদিনই আপনি ছক্কা মারেন। ডিপ্রেশনে চলে গিয়েছিলাম আমি’।’
এর কয়েক মাস পরেই আমির-রিনার বিয়ের কথা পরিবারে জানাজানি হয়। পরিস্থিতি গম্ভীর হয়। রিনার পরিবার তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে। শোনা যায়, এরপরেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন তাঁর বাবা। তবে পরে সেই পরিস্থিতি হয় স্বাভাবিক। পরবর্তীকালে আমিরের ছোট বোন ফারহাতের সঙ্গে রিনার ভাই রাজীবের বিয়ে হয়। বিয়ের ১৬ বছরের মাথায়, ২০০২ সালে আমির ও রিনার বিচ্ছেদ হয়।
