একুশে জুলাইয়ের সভার আগেই তৃণমূলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে। পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বরে প্রবল বিক্ষোভের মুখে রাজ্যের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। নিজের বিধানসভা কেন্দ্রেই কালো পতাকা দেখানো হল মন্ত্রীকে। তৃণমূল কর্মীদের একাংশের তরফে গো ব্যাক স্লোগানও দেওয়া হল মন্ত্রীকে। এখানেই শেষ নয়, মন্ত্রীর গাড়ি লক্ষ্য করে ঝাঁটা, জুতো ছুড়ে ভাঙচুরও চালানো হল। ইটবৃষ্টি ও লাঠি রড দিয়ে মন্ত্রীর কনভয়ের বাকি পাঁচটি গাড়িতেও তৃণমূল কর্মীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ।
রাজ্যের গ্রন্থাগারমন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী মন্তেশ্বরের বিধায়ক। একুশে জুলাই ধর্মতলায় তৃণমূলের শহিদ সমাবেশের আগে প্রস্তুতিসভা সারতে বৃহস্পতিবার কুসুমগ্রাম থেকে মালডাঙা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে যান স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা। মালডাঙা ও মন্তেশ্বর বাজার এলাকায় মন্ত্রীর কনভয় পৌঁছতেই কালো পতাকা, ঝাঁটা-জুতো দেখান তৃণমূল কর্মীদের একাংশ। গাড়িতেও ছুড়ে মারা হয় জুতো। চার-পাঁচ জায়গায় কনভয় দাঁড় করিয়ে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। পরে তা ভাঙচুরে পর্যন্ত গড়ায়।
তাঁকে খুনের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে বিস্ফোরক দাবি করেন মন্ত্রী। মন্তেশ্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আহমদ হোসেন শেখের দিকে অভিযোগের তির সিদ্দিকুল্লার। আহমেদের মদতে তাঁর অনুগামীরাই হামলা চালিয়েছেন বলে দাবি মন্ত্রীর। সিদ্দিকুল্লার দাবি, বিক্ষোভকারীরা স্থানীয় কেউ নন। ওঁদের ভাড়া করে আনা হয়েছে। পুলিশকেও নীরব দর্শক বলে বিঁধতে ছাড়েননি মন্ত্রী। প্রয়োজনে দল ছেড়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন সিদ্দিকুল্লা।
এদিকে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, গত চার বছর ধরে এলাকায় কোনও উন্নয়নের কাজই হয়নি। মন্ত্রীর প্রতিশ্রুতিই সার। রাস্তাঘাটের বেহাল দশা, পানীয় জলের সঙ্কট ও স্বাস্থ্য পরিষেবাতেও চরম অব্যবস্থার অভিযোগ স্থানীয়দের। সেসবের সমাধান না করে এলাকায় শুধু রাজনৈতিক প্রচার করতে মন্ত্রী আসেন বলে অভিযোগ তোলেন বিক্ষোভকারীরা। সিদ্দিকুল্লাকে ‘চিটিংবাজ’ এবং ‘ধাপ্পাবাজ’ বলেও কটাক্ষ করেন তাঁরা। গোটা ঘটনায় জেলা রাজনীতিতে তো বটেই, রাজ্য রাজনীতিতেও শোরগোল চরমে। বেজায় অস্বস্তিতে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসও।
