পুনীত ইসারকে গোটা ভারত চেনে দুর্যোধন হিসেবে। ১৯৮৮ সাল থেকে শুরু হওয়া বি আর চোপড়ার মহাভারতে মহাকাব্যিক ভিলেনের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন তিনি। সেই থেকেই তিনি গোটা দেশের চেনা মুখ। কিন্তু তার কেরিয়ার কিন্তু শুরু হয়েছিল ১৯৮৩ সালে। যা থমকে যায় একটি দুর্ঘটনার জেরে।
মহানায়ক অমিতাভ বচ্চনের ছোট-বড়ো যে কোন খবরের দিকেই সবার নজর। এখনও আগ্রহে অপেক্ষা করা হয় কোন আগামী ছবিতে তিনি অভিনয় করতে চলেছেন। সেই অমিতাভের জীবনে ঘটা এক দুর্ঘটনা পাল্টে দিয়েছিল পুনীতের গোটা জীবন।
ঘটনাটি কুলি ছবির শ্যুটিংয়ের এর সময়ের। ছবিতে অমিতাভের সঙ্গে অভিনয় করছিলেন পুনীত ইসার। তার চরিত্র ছিল ভিলেনের। সেই সময় অমিতাভের সঙ্গে ঘটে যায় এক মারাত্মক দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনায় অমিতাভ প্রায় পড়ে যান মৃত্যুর মুখে। বহুদিন পরে তিনি সুস্থ হয়ে ফের ফেরেন অভিনয়ে। কিন্তু এই ঘটনার কারণে পুনীতের জীবনে এমন প্রভাব ফেলে যে তার থেকে তিনি কোনো দিন বেরিয়ে আসতে পারেননি।
ছবির শুটিংয়ের সময় একটি মারামারির দৃশ্যে অমিতাভের পেটে নকল ঘুষি মারার কথা ছিল পুনীতের। কিন্তু ভুল বশত সেই ঘুষিটি এতো জোরে অমিতাভের পেটে লেগে যায় যে অমিতাভ গুরুতর আহত হন। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।
পুনীত ঘটনার পর ক্ষমা চেয়ে বলেন, তিনি জেনেশুনে ঘুষিটি মারেননি। কিন্তু তা সত্বেও পুনীতকে বয়কট করে গোটা বলিউড। এমনকি সেই সময় শেষ হয়ে যায় তার অভিনয়ের কেরিয়ার। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে লেখা হতে থাকে, পুনীত অমিতাভকে মারতে টাকা নিয়েছেন। অমিতাভের ফ্যানরা তাঁকে মেরে ফেলার হুমকি দিতে থাকে। পুনীতের ঘর থেকে বেরোনো বন্ধ হয়ে যায়।
পুনীত একটি সাক্ষাতকারে জানিয়েছেন, এই ঘটনার জেরে তাঁকে ৭-৮টি ছবি থেকে বের করে দেওয়া হয়। শেষে তাঁর জীবনের খরা কাটে ১৯৮৮ তে মহাভারতে দুর্যোধনের চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পাওয়ার পর।
