বাংলায় এনআরসি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এই বিষয়ে সমস্ত বিরোধী দলকে একজোট হওয়ার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকী বিজেপিকে একহাত নিয়ে তাঁর দাবি, পূর্বপরিকল্পিত নোংরা চক্রান্ত চলছে’। বাংলা কখনই চুপ করে বসে থাকবে না বলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী। গত কয়েকমাস আগে কোচবিহারের বাসিন্দা উত্তম কুমার ব্রজবাসীকে একটি নোটিশ পাঠায় অসম সরকার। জানা যায় সেটি এনআরসির নোটিশ।
সেখানে অভিযোগ, উত্তম কুমার অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে অসম হয়ে দেশে প্রবেশ করেছে। তিনি যে ভারতীয় নাগরিক সে বিষয়ে প্রমাণ্য নথি জমা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ওই নোটিশে। অবিলম্বে অসম পুলিশে যোগাযোগ করতেও বলা হয়েছে উত্তম কুমার। আর এই খবর সামনে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। বাংলার নাগরিককে এভাবে নোটিশ পাঠানোয় চরম ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পিছনে বিজেপির চক্রান্ত আছে বলে অভিযোগ।
জাজবাত বাংলায় আরও পড়ুন
শুধু তাই নয়, আজ মঙ্গলবার সকালেই এই বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তোপ দাগেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। যেখানে তিনি লিখছেন, ”আমি হতবাক ও অত্যন্ত বিচলিত হয়েছি জেনে যে, কোচবিহারের দিনহাটার বাসিন্দা রাজবংশী সম্প্রদায়ের উত্তম কুমার ব্রজবাসীকে অসমের ফরেনার্স ট্রাইবুনাল, এনআরসি নোটিশ জারি করেছে। গত ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি এই বাংলার বাসিন্দা। তাঁর বৈধ পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও, তাঁকে “বিদেশি/অবৈধ অনুপ্রবেশকারী” সন্দেহে হয়রানি করা হচ্ছে। এটি আমাদের গণতন্ত্রের উপর একটি পরিকল্পিত আক্রমণ ছাড়া আর কিছুই নয়”।
শুধু তাই নয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী আরও লিখছেন, ‘এটিই প্রমাণ করে যে অসমে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, যেখানে তাদের কোনো ক্ষমতা বা অধিকার নেই। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ভয় দেখানো, ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া এবং নিশানা করার একটি পূর্বপরিকল্পিত নোংরা চক্রান্ত চলছে। এই অসাংবিধানিক আগ্রাসন জনবিরোধী এবং এটি বিজেপির বিপজ্জনক ষড়যন্ত্রকে দিনের আলোর মত স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, গণতান্ত্রিক সুরক্ষাকে ধ্বংস করে বাংলার মানুষের পরিচয় মুছে ফেলার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি”।
আরও পড়ুন
এই ঘটনায় সমস্ত বিরোধী শক্তিগুলিকে একজোট হওয়ার আবেদনও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, এই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী লিখছেন, ‘সমস্ত বিরোধী দলগুলির একজোট হওয়া এবং বিজেপির বিভাজনমূলক ও দমন পীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো অত্যন্ত জরুরি’। তবে ভারতবর্ষের সাংবিধানিক কাঠামোকে ধ্বংস করা হলে, বাংলা যে চুপ করে থাকবে না তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন প্রশাসনিক প্রধান।
বলে রাখা প্রয়োজন, এনআরসির বিরুদ্ধে আগেও রাজপথে নেমেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আন্দোলন শানিয়েছেন। এমনকী বাংলায় যে এনআরসি হবে না তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন। এরপরেও কোচবিহারের উত্তম কুমারকে কেন নোটিশ, তাও আবার অসম সরকারের তরফে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
