বাংলাদেশের মাটিতে বিপদ বাড়ল মুজিব কন্যা শেখ হাসিনার। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের প্রাক্তন আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধেও চার্জ গঠন হয়েছে ট্রাইব্যুনালে। ঘটনার পরেই প্রাক্তন পুলিশকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার চার্জগঠন প্রক্রিয়া চলার সময় আদালতে আবদুল্লাহ আল মামুনকে হাজির করা হয়।
জানা গিয়েছে, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আনা সমস্ত অভিযোগ মেনে নিয়েছেন মামুন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দোষও স্বীকার করে নিয়েছেন। বাংলাদেশের বহুল প্রচারিত সংবাদমাধ্য ‘প্রথম আলো’র প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, একটি মামলাতে প্রাক্তন পুলিশের আইজিপিকে রাজসাক্ষীও করা হয়েছে। অন্যদিকে শেখ হাসিনা এবং তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে পলাতক দেখানো হয়েছে। তবে চার্জ গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় হাসিনা সহ তিনজনে বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হল ট্রাইব্যুনালে। ফলে সে দেশের মাটিতে বিপদ যে মুজিব কন্যার আরও বাড়ল তা স্পষ্ট।
বলে রাখা প্রয়োজন, বর্তমানে ভারতের আশ্রয়ে রয়েছেন মুজিবকন্যা। একাধিকবার ইউনূস সরকারের তরফে হাসিনার প্রত্যাবর্তন চেয়ে ভারতের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে নরেন্দ্র মোদী সরকার এখনও পর্যন্ত কোনও সাড়া দেয়নি। এই প্রেক্ষাপটে বুধবার ঢাকার তরফে একটি বিবৃতিতে দেওয়া হয়।
ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলমের তরফে সেই বিবৃতি দেওয়া হয়। যেখানে দাবি করা হয়, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত একজন ব্যক্তিকে আর রক্ষা করার সুযোগ ভারতের নেই’। শুধু তাই নয়, বিবেক ও নৈতিক স্বচ্ছতা নিয়ে ভারত যাতে কাজ করে সেই বার্তাও দেওয়া হয়। ওই বার্তায় শফিকুল সাহেব ভারত যাতে ন্যায়বিচার, আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি সম্মান দেখায় সেই বার্তাও দেন।
যদিও এহেন বার্তার পালটা এখনও পর্যন্ত বিদেশমন্ত্রকের তরফে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। এমনকী মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাসিনার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন নিয়েও আওয়ামী লিগের তরফে কোনও বার্তা দেওয়া হয়নি। বলে রাখা প্রয়োজন, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঁচটি অভিযোগ দায়ের হয়।
