কেরলের নার্স নিমিষা প্রিয়ার ইয়েমেনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে চলেছে আগামী ১৬ জুলাই। ২০১৭ সালে ব্যবসায়িক অংশীদারকে হত্যার অভিযোগে ইয়েমেনের আদালত তাঁকে ফাঁসির সাজা দিয়েছে। বর্তমানে নিমিষা একটি ইয়েমেনি জেলে বন্দি এবং তাঁর পরিবার শেষ মুহূর্তে প্রাণভিক্ষার চেষ্টা চালাচ্ছে।
কেরলের বাসিন্দা ৩৬ বছর বয়সি নিমিষা প্রিয়া ২০০৮ সালে ইয়েমেনে নার্স হিসেবে কাজ করতে যান। পরবর্তী কালে তাঁর স্বামী ও কন্যা ভারতে ফিরে এলেও, নিমিষা সানা শহরে একটি সরকারি হাসপাতালে চাকরির পর তিনি নিজের ১৪ শয্যার ক্লিনিক খোলেন। ইয়েমেনি আইন অনুযায়ী, তাঁকে স্থানীয় এক নাগরিক তালাল মাহদিকে পার্টনার করতে হয়। অভিযোগ, কিছুদিন পর মাহদি নিজেকে নিমিষার স্বামী বলে দাবি করে ক্লিনিক দখল করে নেন ও বছর কয়েক ধরে তাঁকে শারীরিক-মানসিক নির্যাতন করতে থাকেন। নিমিষার পাসপোর্টও আটকে রাখেন।
জাজবাত বাংলায় আরও পড়ুন
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে সুরক্ষা না পেয়ে, ২০১৭ সালে নিমিষা মাহদিকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে পাসপোর্ট উদ্ধার করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ওষুধের মাত্রা বেশি হওয়ায় মাহদির মৃত্যু ঘটে। এরপর নিমিষার বিরুদ্ধে খুনের মামলা হয়। দেহ গোপন করার চেষ্টার অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।
২০২০ সালে স্থানীয় আদালতে নিমিষার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়। ইয়েমেনের সর্বোচ্চ আদালত ও রাজনৈতিক পরিষদ সেই রায় বহাল রাখে। বর্তমানে ভারতীয় দূতাবাস ও নিমিষার পরিবার অর্থের বিনিময়ে মাহদি পরিবারকে নিমিষাকে ক্ষমা করতে রাজি করানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। ইতিমধ্যেই ৩৮ লক্ষ টাকা পাঠানো হয়েছে, তবে মাহদি পরিবার এখনও ক্ষমা করেনি।
আরও পড়ুন
নিমিষার পরিবার ও আইনজীবী জানিয়েছেন, ১০ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত দেওয়ার প্রস্তাব থাকলেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কোনও আশার আলো দেখা যায়নি। তাঁর স্বামী ও ১৩ বছরের মেয়ে এখনও ভারতের মানুষের সহানুভূতি ও আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আশায় দিন গুনছে।
‘Save Nimisha Priya’ নামে একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন এই মুহূর্তে জনমত গড়ে তুলতে প্রচার চালাচ্ছে। তবে ইয়েমেনি আইনে নির্দিষ্ট সময়ে ফাঁসি কার্যকর না হলে পুনরায় রায় কার্যকর করা যায় না, এই আইনি অবস্থানকে মাথায় রেখে, আগামী ৬ দিনই হতে পারে নিমিষার জীবনের শেষ সুযোগ
