গৃহযুদ্ধে জেরবার পাকিস্তান! একের পর এক নাশকতার ঘটনা ঘটে চলেছে। এর মধ্যেই একেবারে তেড়েফুঁড়ে উঠল বালোচিস্তান লিবারেশন ফ্রন্ট(বিএলএফ)। পাকিস্তানের একাধিক জায়গায় হামলা চালাল এই সংগঠন। জানা গিয়েছে, গভীর রাতে বালোচিস্তানের একাধিক জেলায় এই হামলা চালানো হয়েছে। যার মধ্যে একাধিক সরকারি বাংলো এবং পাকসেনা ঘাঁটি আছে। যদিও এই বিষয়ে একেবারেই স্পিকটি নট ইসলামাবাদ।
সংবাদসংস্থা এএনআই-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বিএলএফ এই হামলার দায় স্বীকার করে একটি বার্তা দিয়েছে। সংগঠনের তরফে এই অপারেশনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘নই সুবহ’ অর্থাৎ ‘নতুন সকাল’। সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, পাকিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের শত্রুতা রয়েছে বিএলএফের। আর এই হামলা নতুন করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ বলেই মনে করা হচ্ছে। ওই সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সে দেশের বিভিন্ন জায়গা যেমন পাঞ্জগুর, সুরাব, কেচ, খারান সহ মোট ১৭টি জায়গায় হামলা চালানো হয়। আর এই হামলায় বড়সড় ক্ষতির মুখে পাক সরকার।
জাজবাত বাংলায় আরও পড়ুন
সংগঠনের তরফে দেওয়া বার্তায় বিএলএফের সদস্য মেজর গওয়াহরাম বালোচ জানিয়েছেন, এই হামলা ‘বালোচ স্বাধীনতা যুদ্ধের নতুন ভোর’। তাঁর কথায়, মধ্যরাতে হওয়া এই অভিযান মাক্রান উপকূল থেকে কোহ-ই-সুলাইমান পর্বতমালা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। শুধু তাই নয়, এই হামলা আগামিদিনে এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখাবে বলেও দাবি করা হয়েছে বিএলএফের তরফে জারি করা বিবৃতিতে। কিন্তু কীভাবে এই সঙ্গে এতগুলি জায়গায় একযোগে হামলা চালালো বালোচরা?
ওই বার্তায় মেজর গওয়াহরাম জানিয়েছেন, বিস্তৃতভাবে এই হামলা একযোগে চালাতে সাবধানতার প্রয়োজন ছিল। সেই মতো সমস্ত পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাক সামরিক ঘাঁটি এবং সরকারি টার্গেটগুলিতে ব্যাপকভাবে যাতে ক্ষয়ক্ষতি করা সম্ভব হয় পরিকল্পনা সেভাবেই সাজানো হয় বলেও দাবি ওই বালোচ নেতার। একই সঙ্গে বালোচিস্তান লিবারেশন ফ্রন্টের তরফে নতুন ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, অপারেশন এখনও শেষ হয়নি। ফলে ফের একবার বড়সড় হামলা চালাতে পারে বিএলএফ।
আরও পড়ুন
একসঙ্গে ১৭ জায়গায় হামলায় কার্যত প্রবল চাপে ইসলামাবাদ। শুধু তাই নয়, পাকসেনা প্রধান মুনিরের ঘুম যে এই হামলা উড়িয়ে দেবে তাও স্পষ্ট। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত পাকিস্তানের তরফে কোনও বার্তা দেওয়া হয়নি। তবে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, এই হামলার পরেই পাকিস্তানে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন পাক সামরিক ঘাঁটিগুলিতে চরম সতর্কতা রাখার কথা বলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, সরকারি জায়গাগুলিতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
