ইংল্যান্ডের মাটিতে নেতা হিসেবে হাতে খড়ি হওয়ার পর একের পর এক বিতর্কে জড়াচ্ছেন শুভমন গিল। এ বার হোম অব ক্রিকেটে ইংরেজ ওপেনার বেন ডাকেটের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়লেন ভারত অধিনায়ক। সেই প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যেই ইংরেজদের তরফ থেকে অভিযোগ জানানো হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ফলে গিলকে শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে কি না, শুরু হয়েছে সেই জল্পনাই।
ঘটনার সূত্রপাত তৃতীয় দিনের একেবারে শেষ লগ্নে। ইংল্যান্ডের ৩৮৭ রানের জবাবে লর্ডসের প্রথম ইনিংসে ভারতও শেষ হয় একই স্কোরে। এরপর মাত্র একটি ওভারই করতে পেরেছেন ভারতীয় বোলাররা। ইংল্যান্ডের স্কোর বিনা উইকেটে ২ রান। এই ওভারেই ইংরেজ ওপেনার জ্যাক ক্রলির বিরুদ্ধে সময় নষ্টের অভিযোগ আনে ভারতীয় দল। অভিযোগ, ভারতের ইনিংস শেষ হওয়ার পর যেটুকু সময় বাকি ছিল তাতে অন্তত দুটি ওভার হয়েই যেত। কিন্তু জ্যাক ক্রলি ইচ্ছাকৃতভাবে সময় নষ্ট করে দ্বিতীয় ওভারটি হতে দেননি।
জাজবাত বাংলায় আরও পড়ুন
এই ওভারে দুবার বুমরাহ্কে বল করার আগে আটকে দিয়েছিলেন ক্রলি। এরপর চতুর্থ বলে তিনি চোট পান। এই পরিস্থিতিতে এক ওভার শেষ হতেই ৬ মিনিট কেটে যাওয়ায় দ্বিতীয় ওভার করা আর সম্ভব হয়নি। এরপরই মারমুখী হয়ে জ্যাক ক্রলির দিকে তেড়ে যান ক্যাপ্টেন গিল। যা দেখে আসরে নামেন আরেক ইংরেজ ওপেনার বেন ডাকেট। তাঁর সঙ্গে রীতিমত বচসা শুরু হয় গিলের। ইংরেজদের চোখ চোখ রেখে কথা বলতে দেখা যায় তাঁকে। ঐতিহ্যবাহী ‘ক্রিকেটের মক্কা’য় এমনকি মেজাজ হারিয়ে গালাগালিও করে ফেলেন ভারত অধিনায়ক।
ইউটিউবেও জাজবাত, আপডেট থাকুন আমাদের সঙ্গে
এমনিতেই স্লো ওভার রেট ইংরেজদের জন্য একটি বড় মাথাব্যথা। এই স্লো ওভার রেটের কারণেই গত টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ সাইকেলে তারা এত পয়েন্ট হারিয়েছে যে কারণে ফাইনালে ওঠার দৌড়ের ধারেকাছেও ছিল না। এমনকি চলতি সিরিজে বার বার সময়ে ওভার শেষ করতে না পারার অভিযোগ উঠছে বেন স্টোকসের দলের বিরুদ্ধে। অথচ এরই মধ্যে ইংল্যান্ড দলের তরফে পেস বোলিং পরামর্শদাতা টিম সাউদি পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন গিলের বিরুদ্ধেই।
আরও পড়ুন
সাউদির কথায়, “শুভমন গিল নিজেই মাসাজের জন্য শুয়েছিলেন। তাহলে ভারতীয় দল কেন অভিযোগ করছে সেটাই তো বুঝতে পারছি না।” সাউদির এই অভিযোগের পর যথেষ্টই জল ঘোলা শুরু হয়েছে বিষয়টি নিয়ে। চলতি সফরে পর পর বিতর্কে জড়ানো গিল শনিবারের ঘটনার জন্য কোনও শাস্তি পান কি না, শুরু হয়েছে সেই জল্পনাও। এ দিকে সুনীল গাভাস্কারের মত কিংবদন্তি মনে করেন, ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররা আইপিএলে তেমন একটা অংশ নেন না। তার ফলে ভারতীয় ক্রিকেটারদের সঙ্গে তাদের তেমন সখ্য গড়ে ওঠেনি। সেই কারণেই এই ধরনের ঘটনা।
