ওড়িশার বালাসোরে বিভাগীয় প্রধানের বিরুদ্ধে যৌন নিগ্রহের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদে কলেজ ক্যাম্পাসেই আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা ছাত্রীর। গোটা ঘটনা নিয়ে এবার ওড়িশার শাসকদল বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানাল এরাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রস। কসবাকাণ্ডে এমনিতেই শোরগোল রাজ্যজুড়ে। তার উপর মূল অভিযুক্ত মনোজিতের শাসক যোগ স্পষ্ট হয়েছে। এমতাবস্থায় অস্বস্তি বেড়েছে শাসকদলের। এরই মাঝে বালাসোরের কলেজের ন্যক্কারজনক ঘটনার নিন্দা জানিয়ে পাল্টা বিজেপিকে প্যাঁচে ফেলতে এক সেকেন্ডও দেরি করল না তৃণমূল।
বালাসোরের ওই কলেজ ছাত্রীর দেহের ৯০ শতাংশই পুড়ে গিয়েছে। বর্তমানে ভূবনেশ্বর এইমসে চিকিৎসাধীন রয়েছে সে। ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে তাঁকে। আগামী ৪৮ ঘণ্টা খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। ঘটনা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের এক্স হ্যান্ডেলে লেখা হয়, “একেকটা দিন, একেকটা কাণ্ড। সবটাই বিজেপির রাজ্যে। বালাসোরের কলেজে যৌনতায় লিপ্ত না হলে ছাত্রীর ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। অতিষ্ঠ হয়ে গায়ে আগুন দেয় ছাত্রী। ৯৫ শতাংশ দগ্ধ হয়ে গিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে সে। ছাত্রীটিকে বাঁচাতে গিয়ে ৭০ শতাংশ অগ্নিদগ্ধ হয়ে গিয়েছে অপর এক পড়ুয়া। অথচ মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝির মুখে কুলুপ। এটা সত্যিই লজ্জার। প্রধানমন্ত্রী মোদীর কোনও নিন্দা বিবৃতিও নেই। এথেকেই স্পষ্ট বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও আসলে প্রহসন। আমরা সবাই তা বুঝে গিয়েছি।”
বালাসোরের কলেজের ওই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে ওড়িশাতেও। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েকের দল বিজু জনতা দল আক্রমণ শানিয়েছে শাসকদল বিজেপিকে। তাদের দাবি, এহেন ‘বর্বরোচিত’ ঘটনা প্রমাণ করে দিল বিজেপির শাসনে রাজ্যের কলেজ ক্যাম্পাসও সুরক্ষিত নয়। বিজেডি মুখপাত্র লেনিন মোহান্তি বলেন, “এর আগে গোপালপুর সমুদ্র সৈকতে এক ছাত্রীকে গণধর্ষণ করা হয়েছিল। আর এবার কলেজে ছাত্রী নিগ্রহ। এই ওড়িশা আমরা চিনি না।”
অভিযুক্ত অধ্যাপককে গ্রেফতার করলেও প্রিন্সিপালকে বরখাস্ত করেছে শিক্ষা দফতর। যদিও বিরোধীদের দাবি, প্রিন্সিপালকেও গ্রেফতার করে তদন্তের আওতায় আনা হোক। সাংসদ প্রতাপ সারেঙ্গির ভূমিকাও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। অভিযোগ, অভিযুক্ত অধ্যাপককে ছুটিতে পাঠিয়ে দিতে প্রিন্সিপালকে পরামর্শ দিয়েছিলেন সাংসদ। অন্যদিকে, শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা চেয়ে সরব হয়েছে কংগ্রেসও।
