পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের শতক পুরোনো রীতিনীতি ও ধর্মীয় আচারের কপিরাইট আবেদন করতে চলেছে ওড়িশা সরকার। দ্বাদশ শতাব্দীতে তৈরি পুরীর মন্দির। সেই প্রাচীনকাল থেকে যে নিয়মে প্রভু জগন্নাথের আরাধনা করা হয়ে আসছে, অনুকরণ করতে গিয়ে সেসমস্ত আচার লঙ্ঘন করছে বাকি ধর্মীয় সংগঠন ও অন্যান্য রাজ্যের সরকার। এমনটাই অভিযোগ পুরীর সাম্মানিক রাজা তথা জগন্নাথ মন্দিরের ম্যানেজিং কমিটির চেয়ারম্যান গজপতি মহারাজ দিব্যসিংহ দেবের।
পুরীর আদলে পশ্চিমবঙ্গের দীঘায় তৈরি জগন্নাথ মন্দিরকে ‘জগন্নাথধাম’ বলা নিয়ে আপত্তি ওড়িশা সরকারের। দীঘার মন্দিরের পূজা পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে ইসকন। পুরীর মন্দিরের প্রাচীন নিয়ম নির্ঘণ্ট না মেনেই নিজেদের মতো করে ধর্মীয় আচার পালন করছে ইসকন। এমনকী, পুরীর মন্দিরের দিনক্ষণ মেনে স্নানযাত্রা ও রথযাত্রা ইসকন করে না বলেও অভিযোগ। পুরীর রাজার আরও দাবি, ভারতের নিয়ম নীতি অনুসরণ করলেও বিদেশে ইচ্ছে মতো দিনে ধর্মীয় আচার পালন করে ইসকন। ইতিমধ্যেই পুরীর মন্দিরের কর্তৃপক্ষের তরফে নদিয়ার মায়াপুরে ইসকনের সদর দফতরে এব্যাপারে জানানো হয়েছে বলেও খবর।
জাজবাত বাংলায় আরও পড়ুন
অক্ষয় তৃতীয়ায় দীঘায় জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধন করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায। সেটিকে আবার ‘জগন্নাথধাম’ বলা হচ্ছে। তা নিয়ে আপত্তি তুলেছে ওড়িশা সরকার। পুরীর গোবর্ধন পীঠের শঙ্করাচার্য প্রবল আপত্তি তুলেছেন ‘ধাম’ শব্দের প্রয়োগ নিয়ে। ‘ধাম’ কথার অর্থ আবাসস্থল। গত মে মাসে এই নিয়ে মমতাকে চিঠি লেখেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝিও। পুরীর রাজা এপ্রসঙ্গে বলেন, পশ্চিমবঙ্গের সরকার বিষয়টি সমাধানে উদ্যোগী হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। তবে যদি তা না হয়, তাহলে অন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিন পুরীর রাজা আরও জানান, জগন্নাথ মন্দিরের নিয়মকানুন ও প্রাচীন আচার অনুষ্ঠানের কপিরাইট চাওয়া হবে। সেই কাজ শুরুও করে ফেলেছে ওড়িশা সরকার। আইন বিশেষজ্ঞজদের থেকে এব্যাপারে মতামতও জানতে চাওয়া হবে। হাজার বছরেরও অধিক প্রাচীন রীতিনীতি সংরক্ষণে ও তা লঙ্ঘন ঠেকাতেও কপিরাইট আবেদন করতে চলেছে পুরীর মন্দির কর্তৃপক্ষ।
