প্রথমবার কেরলের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে কোনও বাই-লিঙ্গুয়াল শর্টফিল্ম। বরুণ চন্দ অভিনীত ‘রি-রাউটিং’ দেখা যাবে কেরলের ক্রাউন থিয়েটারে। ছবির পরিচালনায় বাঙালি কন্যা কঙ্কনা চক্রবর্তী। ভিনরাজ্যের বড়পর্দায় ১৩ মিনিটের শর্টফিল্মের মুক্তি আরও একবার প্রমাণ করল ‘কনটেন্টই শেষ কথা বলে’। এমনটাই মত পরিচালকের, যিনি এই ছবিতে অভিনয়ও করেছেন। ছবিতে অভিনয় করেছেন প্রদীপ ভট্টাচার্যও।
আগামী ১৯ জুলাই কেরলে মুক্তি পাচ্ছে এই ছবি। প্রবল ব্যস্ততার ফাঁকে জাজবাত ২৪ বাংলার সঙ্গে ফোনে কথা বললেন কঙ্কনা। স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি প্রেক্ষাগৃহে বড়পর্দায় জায়গা পেলে পরিচালকের অনুভূতিটা কেমন হয়? কঙ্কনার কথায়, ‘আমাদের শেখানো হয়েছিল যে ভালো কন্টেন্ট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ছবির দৈর্ঘ্য, বাজেট কিছুই ম্যাটার করে না। অবশ্যই একটা অর্থনৈতিক দিক থাকেই। কিন্তু শর্টফিল্ম যে ফেস্টিভ্যাল ছাড়া কোনও থিয়েটারে দেখানো যাবে না এই বিষয়টা আমার কাছে খুব অদ্ভুত লাগত। দিনের শেষে ওটাও একটা কন্টেন্ট, এবং সেটাও মানুষের দেখার জন্যই তৈরি করা হয়েছে। ‘রি-রাউটিং’ ছবির প্রথম স্ক্রিনিংয়েই বুঝেছিলাম যে মানুষ একসঙ্গে হলে বসে দেখলে ছবিটা উপভোগ করছেন অনেক বেশি। সেখান থেকেই এই ছবির স্ক্রিনিং করানোর সিদ্ধান্ত।’
জাজবাত বাংলায় আরও পড়ুন
ছবিটি ইতিমধ্যেই সত্যজিৎ ফিল্ম ইনস্টিটিউশন, নন্দন, মুম্বইয়ের এনসিপিএ-তে প্রদর্শিত হয়েছে। প্রথমবার পিভিআর আইনক্সে কোনও বাংলা শর্টফিল্ম দেখানো হয়েছে যার তিনটি শো হাউজফুল ছিল। এবার সেই তালিকায় জুড়বে কেরলের নাম। ‘পরিচালক হিসেবে আমি ভীষণ খুশি। আমার সঙ্গে গ্রাউন্ড লেভেলে নেমে প্রচার করেছে আমার টিম। নিজেরা লড়াই করে এই জায়গায় পৌঁছেছি। ওঁদের জন্য আমি গর্বিত। আমি মনে করি ‘রি-রাউটিং’-এর এই সফর বাকি শর্টফিল্ম নির্মাতাদের অনুপ্রাণিত করবে।’
প্রথম বাই-লিঙ্গুয়াল শর্টফিল্ম হিসেবে এই ছবি কেরলে নজির গড়বে, এত মানুষের কাছে পৌঁছবে, এই সাফল্যে প্রশান্তি যেমন আছে, পরিশ্রমও আছে অঢেল। কঙ্কনার কথায়, ‘ছবির সফর শুরু হয় ২০২০ সালে।’ নানা কারণে সেই সময় ছবির শ্যুটিং বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু হার মানেননি কঙ্কনা। ২০২৪ সালে ফের সেই ছবির শ্যুটিং শুরু করেন তিনি, গুয়াহাটিতে। ২০২৫ সালে সেই কাজ শেষ হয়। ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হয় ‘স্ক্রিনিং সফর’। পরিচালক বলছেন, ‘প্রথম আমাদের জায়গা করে দিয়েছিলেন গৌতম ঘোষ স্যার, ওঁর মর্যাদাপূর্ণ ফেস্টিভ্যালে।’
এসআরএফটিআই-তে এরপর স্ক্রিনিংয়ের জন্য আবেদন করা হলে বাধা আসে। তবে সব ঝড় পেরিয়ে অবশেষে সেখানেও দেখানো হয় ‘রি-রাউটিং’। ‘সবচেয়ে বড় স্ট্রাগল বা সফর শুরু হয় যখন আমরা স্বপ্ন দেখি মুম্বইয়ের এনসিপিএ থিয়েটারে আমাদের সিনেমার স্ক্রিনিং করব। ওইখানে বাই-লিঙ্গুয়াল একটা শর্টফিল্ম দেখার জন্য ১২০ জন দর্শক জোগাড় করা, তাও একটা শনিবারের সন্ধ্যায়, বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। কিন্তু আমরা সেটাও করেছি। তখনই গ্রাউন্ড প্রোমোশন যে দর্শককে কতটা প্রভাবিত করতে পারে সেটা বুঝি।
ইউটিউবেও জাজবাত, আপডেট থাকুন আমাদের সঙ্গে
এরপর কলকাতায় শুরু হয় লড়াই। মাল্টিপ্লেক্সে প্রদর্শনের আগে একটা ছোট্ট টিম তৈরি হয় আমাদের, যা ধীরে ধীরে পরিবার হয়ে উঠেছে আমাদের। আমরা পথে নেমে প্রচার শুরু করি। বরুণ চন্দ স্যার, ৮৫ বছর বয়স তাঁর, উনিও আমাদের সঙ্গে নন্দনে হেঁটে প্রচার করেছেন। প্রতি রাতে আমরা ভেঙে পড়েছি কর্পোরেট দুনিয়ার সঙ্গে লড়তে লড়তে, আবার উঠে দাঁড়িয়েছি।’ কেরলের এক তরুণ এই ছবির ট্রেলার দেখে কলকাতা আসেন শুধুমাত্র এই ছবিটা দেখতে। তাঁরই উদ্যোগে এবং প্রেক্ষাগৃহের মালিকের সহায়তায় এই ছবি এবার প্রদর্শিত হবে ঐতিহ্যবাহী ক্রাউন থিয়েটারে।
এই ছবিটি সম্পূর্ণ সাদা-কালো। পরিচালকের কথায় কোনও নির্দিষ্ট ঘরানায় একে বাঁধা যায় না। এক একজন দর্শক এক একভাবে এই ছবির মানে খুঁজে পাচ্ছেন, ব্যাখ্যা করছেন এবং সেটাই পরিচালক চেয়েছিলেন। এই ছবি সম্পর্কের গল্প বলবে, কিন্তু চিরাচরিত ধাঁচে নয়। প্রবল কঠিন বা চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতেও একে অপরের প্রতি মানবিক, সহাভূতিশীল থাকার সম্ভাবনা নিয়ে সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার বুনেছেন কঙ্কনা। প্রসঙ্গত, এই ছবি দেখে প্রশংসা করেছিলেন স্বয়ং অমিতাভ বচ্চনও। শেয়ার করেছিলেন ছবির ট্রেলারও। লস অ্যাঞ্জেলসের নিউ ইয়র্ক ফিল্ম অ্যাকাডেমি থেকে পড়াশোনা করেছেন কঙ্কনা। আপাতত তিনি কেরলের মানুষের প্রতিক্রিয়া পাওয়ার অপেক্ষায়।
