অভিজিৎ বসু
পথে মমতা। সঙ্গে অভিষেক। একদম চুপ চাপ বৃষ্টি ভেজা রাস্তায় বাঙলা ও বাঙালির অভিভাবক আমাদের সবার প্রিয় দিদি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গর্জে ওঠা। প্রতিবাদে গর্জে উঠে জানান দেওয়া যে কোনোও অন্যায় আর অবিচারে তিনি পথে নামতে দ্বিধা করেননি কস্মিন কালেও তাঁর সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে। সে বামেদের রক্তচক্ষুর আমল হোক বা জ্যোতি বসুর দোর্দণ্ড প্রতাপ আমল হোক বা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের একটু উন্নাসিকতার লাল পার্টির বামেদের আমল হোক।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানেই প্রতিবাদে মুখর হয়ে রাস্তায় নেমে পড়ে হৈ চৈ হুল্লোড় করে চারিদিকে জানান দেওয়া যে তিনি পথেই আছেন সব সময়। সে যে কোনোও ইস্যুতেই হোক। বিরোধিতা করে পথে, রাজ সিংহাসনে বসে পড়লে নাকি পথে নামলে অসুবিধা হয় শাসকের কিন্তু না সেই সব কিছুকে উড়িয়ে দিয়েই তাঁর এই বাংলার মাটির মানুষদের জন্য ফের রাস্তায় নেমে পড়া। যে পথে নামতে গিয়ে রাজ্যের বিজেপিকে একাধিকবার ভাবতে হয়, টিমটিমে কংগ্রেসকে ঢোঁক গিলতে হয় বারবার। দিল্লীর অনুমোদন আসবে কি না তার জন্য অপেক্ষা করতে হয়।

আর সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই কংগ্রেস দল ভেঙে নতুন পার্টির তৃণমুল কংগ্রেস গড়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে পড়া তাঁর। সে বাঙালি জাতির জন্য হোক, সিঙ্গুরের তিন ফসলি জমিহারা চাধীদের জন্য হোক। ফুরফুরা দরবার শরিফের মানুষদের জন্য হোক, ২৫ শে ডিসেম্বর এর সেই জিঙ্গেল বেল এর জগতে ভেসে গিয়ে গীর্জায় খ্রীষ্টের বন্দনা করে হোক। যে কোনোও অসুবিধা হলেই সবাইকে জানিয়ে দিয়ে সবার পাশে দাঁড়িয়ে পড়া। হতে পারে সেটা ভালো ও মন্দ দুই হতে পারে। এটাই তাঁর রাজনৈতিক জীবনের একমাত্র ভরসা আর ইউ এস পি। শুধুই চোখ মেলে যে কোনও ইস্যুকে আগলে নিয়ে রাজনৈতিক জীবনে বেঁচে থাকা।
জাজবাত বাংলায় আরও পড়ুন
আর এই প্রতিবাদ শুধু একা নয় এইবার এই সাধারণ মানুষের পাশে বাঙলার মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে ভিনরাজ্য এই বাঙালিদের হেনস্থার প্রতিবাদ করতে গিয়ে মমতার সঙ্গে পথে নামছেন স্বয়ং অভিষেক বন্দোপাধ্যায় নিজেই। একদম পরিকল্পনা করে সংখ্যালঘুদের মন ভিজিয়ে ভোট পাওয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, লক্ষ্মী ভান্ডারের ঝাঁপি খুলে মহিলাদের হার্ট বিট বাড়িয়ে দিয়ে ভোটে সব থেকে বেশী ভোট আদায় করা মমতা, মাড়োয়ারি বা গুজরাটিদের পাশে দাঁড়ানো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এইবার বাঙালির পাশে দাঁড়িয়ে পথে নামছেন সঙ্গে অভিষেক বন্দোপাধ্যায়কে নিয়ে। একদম পরিকল্পনা করে রাস্তায় নেমে পড়া।

মিডিয়ার তৈরি একটা ঘরের দূরত্বকে কমিয়ে দিয়ে রাজ্যে যুবরাজ এর অভিষেক হবার আগেই একসাথে পিসি আর ভাইপোর এইডুয়েল জুটির মোকাবিলা কে করবে কে জানে এই বঙ্গ রাজ্যের রাজনীতিতে। এই পিসি আর ভাইপোর হাঁটা দেখে হয়তো কবিতা আউড়ে বিজেপির নতুন সভাপতি বলবেন ‘অবনী বাড়ী আছো’। কংগ্রেস এর শীর্ষনেতা সবাই ফিসফিস করে বলবেন আড়ালে আবডালে সেই প্রতিবাদ, প্রতিবাদ আর বৃষ্টি ভেজা পথ কে বেছে নিয়েই তো এই মেয়েটা এতো দূর এগিয়ে গেলো একা একাই একদম নিজের লক্ষ্য স্থির করে।
ইউটিউবেও জাজবাত, আপডেট থাকুন আমাদের সঙ্গে
হোক না শুধুই পরিবার নিয়ে ভাবনা। হোক না ভাইপো অভিষেক বন্দোপাধ্যায় কে নিয়ে পরিকল্পনা করে ক্ষমতার ব্যাটন তুলে দেবার আগে থেকেই একসাথে যে কোনো ইস্যূতে হেঁটে চলে ঘুরে বেড়ানো। একটু মেপে মেপে পা ফেলে এগিয়ে চলা তাঁর। কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানেই বাঙলা বাঙালি জাতির প্রতি প্রীতি দেখিয়ে রাস্তায় নেমে সকলকে নিয়ে হেঁটে বুঝিয়ে দেওয়া যে তিনি কোনোও অসুবিধা হলেই সবাইকে জানিয়ে দিয়ে পথে নেমে পড়েন। যে পথ তাঁর একমাত্র ঘরবাড়ি। সে সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম, নানুর, কেশপুর যার জন্যই হোক। রাজনীতির ময়দানে পথ ঘাট পেরিয়ে শুধুই আন্দোলন আর আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিজের হাতের মুঠোয় সাফল্য কে ভরে নিয়ে এগিয়ে চলেছেন তিনি সঙ্গে তাঁর আগামীদিনের উত্তরসূরি অভিষেক বন্দোপাধ্যায়।
