৭৫ বছর বয়েসে প্রয়াত রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ও প্রবীণ কংগ্রেস নেতা আবু হেনা। রবিবার রাত পৌনে ১১টা নাগাদ কলকাতার সল্টলেকের নিজ বাসভবনেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। সোমবার সকালে তাঁর মরদেহ লালগোলায় নিয়ে যাওয়া হবে শেষকৃত্যের জন্য।
তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে মুর্শিদাবাদ তথা রাজ্যের রাজনীতিতে। রাজনৈতিক মহল বলছে, পোড় খাওয়া নেতার মৃত্যুতে যেন একটি অধ্যায়ের অবসান হল। কংগ্রেসের কাছে তিনি ছিলেন নেতৃত্বের মুখ, কর্মীদের প্রেরণা, আর সাধারণ মানুষের কাছে ছিলেন আস্থার প্রতীক।
একটানা ৩০ বছর লালগোলা কেন্দ্র থেকে কংগ্রেস বিধায়ক হিসেবে জয় হাসিল করেন তিনি। পেশায় আইনজীবী আবু হেনা ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম মন্ত্রিসভায় সংখ্যালঘু উন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী হন। তবে পরবর্তীতে কংগ্রেস, সরকার থেকে সমর্থন তুলে নিলে তিনিও মন্ত্রিত্ব ছাড়েন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবার তৃণমূল প্রার্থী মহম্মদ আলির কাছে পরাজিত হন তিনি। বর্তমানে মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেস কমিটির সভাপতি ছিলেন আবু হেনা।
আবু হেনা কেবল রাজনীতিবিদই নন, এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবার থেকেও উঠে এসেছিলেন। তাঁর বাবা আব্দুস সাত্তার ছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের মন্ত্রিসভার সদস্য।
প্রাক্তন সাংসদ অধীর চৌধুরী এক আবেগঘন বার্তায় শ্রদ্ধা জানিয়ে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘ভাবতেই পারছি না, হেনাদা আর নেই। গত সপ্তাহেই দেখা করেছিলাম। বিশ্বাস ছিল, আবার আমাদের সঙ্গে লড়াইয়ের ময়দানে ফিরবেন। হেনাদা সততা, নিষ্ঠা, আর আদর্শের মূর্ত প্রতীক ছিলেন।
