সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
একুশের মঞ্চ থেকেই নয়া ভাষা আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার নবান্ন থেকে ফের তিনি জানালেন “এরপর থেকে যেখানেই যাব সেখানেই হবে ভাষা মিছিল।” মুখ্যমন্ত্রী নিজেই জানান, আগামী ২৭ ও ২৮ জুলাই বীরভূমে একটি সরকারি অনুষ্ঠান ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দেবেন তিনি। কর্মসূচি শেষে বীরভূমে তিনি ভাষা মিছিল করবেন। আর এই ভাষা আন্দোলন নতুন করে কেন শুরু করতে চান সে ব্যাপারেও এদিন ফের ব্যাখ্যা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই।
সোমবার একুশের মঞ্চ থেকে তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একটি নির্দেশিকা দেখিয়ে জানিয়েছিলেন যে বাংলা ভাষায় কথা বললেই বাংলাদেশি সন্দেহে এক মাস যে কাউকে আটকে রাখা যেতে পারে। রাজ্যের রাজবংশী যুবককে অসম সরকারের পক্ষ থেকে এনআরসি চিঠি পাঠানোর নিয়েও তীব্র বিরোধিতা জানান মমতা। মঙ্গলবার নবান্নে ফের অসম ও হরিয়ানা সরকারের এই বাংলা বিদ্বেষী মনোভাবের কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন ফের এনআরসি নোটিশ পাঠানো হয়েছে অসম সরকারের পক্ষ থেকে।
জাজবাত বাংলায় আরও পড়ুন
ফালাকাটায় রাজ্যের এক বাসিন্দাকে ফরেনারস ট্রাইবুনাল থেকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আর এই নিয়েই ফের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর অবমাননার অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার প্রশ্ন, পশ্চিমবঙ্গের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অসম সরকার কোন অধিকারে হস্তক্ষেপ করে? বাংলার বিষয়ে আসাম কিভাবে দখলদারি করে? মমতার স্পষ্ট বক্তব্য, “ডবল ইঞ্জিন সরকারকে বলবো নিজেদের চরকায় তেল দিন। ওখানে তো কালী মন্দির ভাঙ্গা হয়েছে উদ্বাস্তুদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে সেগুলি নিয়ে কি উত্তর দেবে?”
এবার বাংলা বিদ্বেষীর তালিকায় হরিয়ানা সরকারও। মুখ্যমন্ত্রী এদিন নবান্নে জানিয়েছেন নির্দিষ্ট জেলা বেছে বেছে মোট ৫২ জনের একটি তালিকা হরিয়ানার গুরগাঁও থেকে পাঠানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলা শাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের কাছে। ৫২ জনের একটি নাম তালিকা দিয়ে সেই বাংলাভাষী মানুষগুলোর সম্বন্ধে বিষদ তথ্য জানতে চেয়েছে হরিয়ানা সরকার। জেলাগুলি হল মালদা দক্ষিণ দিনাজপুর উত্তর দিনাজপুর নদিয়া মুর্শিদাবাদ কোচবিহার ও উত্তর ২৪ পরগনা।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন এরা সকলেই বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক যারা দক্ষতা নিরিখে হরিয়ানায় গিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। শুধুমাত্র বাংলা বলার অপরাধে তাদের বাংলাদেশি বলে চিহ্নিত করে ডিটেনশন ক্যাম্পে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে এই বাংলাভাষি মানুষজনকে। আর বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোর এই আচরণে ক্ষিপ্ত মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন, “এরা কি বাংলা দখল করতে চাইছে? এসব করে ভোটার লিস্ট থেকে নাম বাদ দিয়ে ভয় দেখাতে চায়।” আপনারা ভয় পাবেন না, বরাভয় মুখ্যমন্ত্রীর। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, কাজের অধিকারে দেশের যেকোন প্রান্তে যেকোন মানুষ যেতেই পারে। পশ্চিমবঙ্গেও প্রায় দেড় কোটি ভিন্ন রাজ্যের পাশাপাশি মানুষ রয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গবাসীর ওই ভিন রাজ্যের পাশাপাশি মানুষজনকে নিয়ে কোন সমস্যা নেই।
আরও পড়ুন
মুখ্যমন্ত্রীর পাল্টা প্রশ্ন” যদি বাংলার সমস্যা না থাকে তাহলে বাংলা ভাষা নিয়ে আপনাদের সমস্যা কোথায়?” মুখ্যমন্ত্রীর মতে, বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য আমাদের দেশের কৃষ্টি ও সংস্কৃতি। তাহলে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে অন্যদের আপত্তি থাকবে কেন? অসমের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বাস শর্মাকে মমতার কটাক্ষ,”অসমের মুখ্যমন্ত্রী তো উত্তর-পূর্বের দায়িত্বে। তাহলে মনিপুরের দাঙ্গা তিনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি কেন? পরিশেষে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ “মানুষকে না ভালবাসলে দেশকে ভালোবাসা যায় না। মানুষকে যদি ভালো না বাসা যায় তাহলে দেশকে ভালোবাসবেন কিভাবে?”
