By using this site, you agree to the Privacy Policy and Terms of Use.
Accept
Jazzbaat 24 BanglaJazzbaat 24 BanglaJazzbaat 24 Bangla
  • হোম
  • দেশ
  • রাজনীতি
  • বিদেশ
  • ময়দান
  • অপরাধ
  • বিনোদন
  • সুস্বাস্থ্য
  • শিক্ষা
  • আবহাওয়া
  • অপরাধ
  • অর্থনীতি
  • ই-পেপার
  • ই-স্পেশাল
  • ওয়েবস্টোরি
  • কৃষি
  • চাকরি
  • জাজবাত প্লাস
  • ধর্মকর্ম
  • পরিবেশ
  • প্রযুক্তি
  • ফ্যাশন
  • বিজ্ঞান
  • বিদেশ
  • ব্যবসা
  • ময়দান
  • মহানগর
  • রকমারি
  • রাজনীতি
  • রাজ্য
    • উত্তরবঙ্গ
    • দক্ষিণবঙ্গ
  • সফর
  • সংস্কৃতি
Reading: মোদির বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিলেন রতন থিয়াম
Share
Sign In
Notification
Font ResizerAa
Jazzbaat 24 BanglaJazzbaat 24 Bangla
Font ResizerAa
  • হোম
  • দেশ
  • রাজনীতি
  • বিদেশ
  • ময়দান
  • অপরাধ
  • বিনোদন
  • সুস্বাস্থ্য
  • শিক্ষা
  • আবহাওয়া
  • অপরাধ
  • অর্থনীতি
  • ই-পেপার
  • ই-স্পেশাল
  • ওয়েবস্টোরি
  • কৃষি
  • চাকরি
  • জাজবাত প্লাস
  • ধর্মকর্ম
  • পরিবেশ
  • প্রযুক্তি
  • ফ্যাশন
  • বিজ্ঞান
  • বিদেশ
  • ব্যবসা
  • ময়দান
  • মহানগর
  • রকমারি
  • রাজনীতি
  • রাজ্য
  • সফর
  • সংস্কৃতি
Search
  • হোম
  • দেশ
  • রাজনীতি
  • বিদেশ
  • ময়দান
  • অপরাধ
  • বিনোদন
  • সুস্বাস্থ্য
  • শিক্ষা
  • আবহাওয়া
  • অপরাধ
  • অর্থনীতি
  • ই-পেপার
  • ই-স্পেশাল
  • ওয়েবস্টোরি
  • কৃষি
  • চাকরি
  • জাজবাত প্লাস
  • ধর্মকর্ম
  • পরিবেশ
  • প্রযুক্তি
  • ফ্যাশন
  • বিজ্ঞান
  • বিদেশ
  • ব্যবসা
  • ময়দান
  • মহানগর
  • রকমারি
  • রাজনীতি
  • রাজ্য
    • উত্তরবঙ্গ
    • দক্ষিণবঙ্গ
  • সফর
  • সংস্কৃতি
Have an existing account? Sign In
Follow US
  • Advertise
© 2024 Jazzbaat24Bangla News Network. All Rights Reserved.
Jazzbaat 24 Bangla > রাজনীতি > মোদির বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিলেন রতন থিয়াম
রাজনীতি

মোদির বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিলেন রতন থিয়াম

Jazzbaat 24 Bangla
Last updated: July 23, 2025 4:26 pm
Jazzbaat 24 Bangla
Share
10 Min Read
SHARE
মোদির বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিলেন রতন থিয়াম
👁️ 3
WhatsApp Share on WhatsApp

দিব্যেন্দু ঘোষ

Contents
জাজবাত বাংলায় আরও পড়ুনআরও পড়ুনআরও পড়ুনইউটিউবেও জাজবাত, আপডেট থাকুন আমাদের সঙ্গে

তখন মণিপুর জ্বলছে। জাতিদাঙ্গায় বিদীর্ণ ভারতের হৃদয়। কুকি-মেইতেই আপন আপন জাতি-অস্মিতা রক্ষায় হাতে তুলে নিচ্ছে অস্ত্র। হিংসার লেলিহান শিখা কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠছে উত্তর-পূর্বের আকাশে। সেই গনগনে আঁচ চুঁইয়ে আসছে দিল্লির দরবারে। মোদি-শাহ ঘনিষ্ঠ বীরেন সিং সরকার ব্যর্থ। বিরোধীদের মুহুর্মুহু আক্রমণ। ফালাফালা মোদি সরকার। শান্তি কমিটি তৈরি করল কেন্দ্র। তার অন্যতম অংশ ভারতীয় মঞ্চনাটকের অন্যতম পথিকৃৎ, ‘থিয়েটার অফ রুটস’ আন্দোলনের অগ্রদূত রতন থিয়াম। কমিটি থেকে বেরিয়ে এলেন রতন। গর্জে উঠলেন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে। মোদির নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। চোখে চোখ রেখে প্রশ্ন করলেন, ‘আমরা কি ভারতের অংশ?’ অবাক হয়ে ভাবছেন মণিপুরের বিখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব ও নাট্যকার। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিক্রিয়ায় ব্যথিত। নাটকে ডুবে থাকছেন, কবিতা লিখছেন, সমাজের আয়না চোখের সামনে ধরছেন আপামরের।

ঠিক সেই সময়ই আমার হাতে আসে ‘নির্বাচিত কবিতা’। রতম থিয়ামের দুটি কাব্যসংগ্রহ ‘তালাপামেল নাহাকসু’ এবং ‘সনাগী থম্বাল’-এ প্রকাশিত কবিতাগুলির মধ্য থেকে ২০৫টি কবিতা স্থান পেয়েছে এই গ্রন্থে। পড়তে পড়তে মনে হতে থাকে, যেন নিজের সঙ্গেই নিজে কথা বলছেন তিনি। সেখানে জড়ো হয় নানা চরিত্র, তবে তারা ঠিক নাটকের চরিত্রদের মতো নয়, আরও অন্য কিছু। উঠে আসছে স্বজন-পরিজনের স্নেহ-মমতা, আনন্দ-বেদনার নানা মুহূর্ত যা তাঁকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে। আর তাই বোধহয় মণিপুরের হিংসায় এতটা কষ্ট পান রতন। তার অনেক বছর আগের লেখা কী ভীষণ প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। ‘আকড়ে জড়িয়ে ধরে রেখেছ অগুনতি শাখা প্রশাখায় তোমার সন্তান সন্ততিদের/হে বিটপী বনদেবী মাগো…’। পাহাড়ের কোলের এক উপত্যকাভূমি, মেঘ ভেসে চলে সামনে দিয়ে। আর সবুজ পাহাড় ডাক দেয় অনেক দূর থেকে। সেখানে যখন হিংসার ঘনায়মান অন্ধকার, তখন যেন তিনি ‘পাপ’ স্বীকার করেন দ্বিধাহীন হয়ে। ‘নিষিদ্ধ শরীরে শরীর মেলানো নিষিদ্ধ খাদ্য খাওয়া/নিষিদ্ধ পানীয় পান, অশিষ্ট বাক্য উচ্চারণ/ঝুড়ি ঝুড়ি পাপ’। ‘উমংলাই’ অর্থাৎ ‘বনদেবতা’র কোলেই হঠাৎ করেই ঘুমও এসে পড়ে। আর স্বপ্নের মধ্যে বৃষ্টি নামে, ‘হাত মেলে ধরে কয়েক ফোঁটা জমানো যায় কিনা দেখি/গত হয়ে যাওয়া জীবনের পাতায়/কয়েকটা অক্ষর তুলে রাখি…’।

জাজবাত বাংলায় আরও পড়ুন

বাংলা ভাষা, বাঙালিয়ানা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

রবি ঠাকুরের ‘গুরু’ নাটকটি মণিপুরি ভাষায় করেছেন। রবীন্দ্রসঙ্গীত তাঁর প্রিয়। কলকাতা তথা বাংলায় বোদ্ধা শ্রোতাদের সামনে শো করে তিনি একটা আলাদা তৃপ্তি লাভ করেন, বার বার বলছিলেন। নাটকঅন্তপ্রাণ সেই মানুষটিই ব্যথায় ককিয়ে ওঠেন। ক্রোধ ঝরে পড়ে তাঁর আপাত শান্ত ব্যক্তিত্বের আস্তিন গলে। তাঁর নিজের রাজ্য সময় হারাচ্ছে। সংঘর্ষ জীবন কেড়ে নিচ্ছে, বহু নারীকে বিধবা করছে, শিশুদের অনাথ করে দিচ্ছে। এই দৃশ্য দেখতে পারছেন না রতন। ফুঁসে উঠে তিনি বলেছিলেন, ‘কেন্দ্র আমাকে কখনও জিজ্ঞাসা করেনি আমি কমিটিতে থাকতে পারব কিনা। সব সিদ্ধান্ত যখন কেন্দ্রই নেবে, তখন আমি শান্তি কমিটিতে থেকে কী করব?’

সেই থিয়ামের অনেক নাটক মণিপুরের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে উদ্বিগ্নতার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। ‘অতীতেও রাজ্যে হিংসার আগুন জ্বলেছে, কিন্তু বর্তমানের ঘটনা নজিরবিহীন, তবুও প্রধানমন্ত্রী নীরবতা পালন করেছেন’। ক্ষোভে, দুঃখে বলেছিলেন সঙ্গীত নাটক আকাদেমি ও পদ্মশ্রী প্রাপক। ‘যখন একটি সরকার দেশ পরিচালনা করে, তখন জনগণের দেখাশোনা করা সরকারের দায়িত্ব, ভাল বা খারাপ, যোগ্যতা বা দোষ যাই হোক না কেন। এটা তাদের কর্তব্য। মোদির মতো এমন একজন নেতা থাকা সত্ত্বেও, কেন কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ ঘটছে না?’ জিজ্ঞেস করেছিলেন রতন।

আরও পড়ুন

‘বেজন্মার দল’, বেফাঁস দিলীপ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মণিপুর সফরের পর ১০০ কোটি টাকার একটি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছিল। তখন রতন বলেন, ‘শান্তির সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই। আমাদের একটি মানবিক প্যাকেজ দরকার। বাড়ি তৈরির আগে, আমাদের আরও অনেক কিছু তৈরি করতে হবে’। একজন শিল্পী হিসেবে, কেন্দ্রকে দ্রুত পদক্ষেপ করার অনুরোধ করেছিলেন রতন। বলেছিলেন, ‘নইলে অনেক দেরি হয়ে যাবে’। মূলধারার গণমাধ্যমের বিরুদ্ধেও অভিযোগ ছিল থিয়ামের। বলেছিলেন, ‘যখন একজন ডাকাত মারা যায়, তখন সমস্ত চ্যানেল এটি নিয়ে কথা বলতে থাকে। তারা এটি ১৫ দিন বা তারও বেশি সময় ধরে দেখায়। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে এক মাস ধরে কিছুই ছিল না।

কেউই আসলে মণিপুরের হিংসা প্রকাশ করার কথা ভাবছে না’। বিধবা, অনাথ, ত্রাণ শিবিরে বসবাসকারী মানুষদের কান্না দেখে রতনের হৃদয় ভেঙে খান খান হয়েছে। সামান্যতম বিচক্ষণ মানুষের পক্ষে যে এটা সহ্য করা কঠিন, বারবার বলেছেন রতন থিয়াম। তার পরেও আশার কথা শুনিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘আমরা অতীতেও শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করেছি। মণিপুরের ৩৫টি সম্প্রদায় একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। একজন শিল্পী হিসেবে, আমি একজন আশাবাদী। একজন মানুষ সবসময় মানুষকে ঘৃণা করতে পারে না’।

কেউই আসলে মণিপুরের হিংসা প্রকাশ করার কথা ভাবছে না’। বিধবা, অনাথ, ত্রাণ শিবিরে বসবাসকারী মানুষদের কান্না দেখে রতনের হৃদয় ভেঙে খান খান হয়েছে। সামান্যতম বিচক্ষণ মানুষের পক্ষে যে এটা সহ্য করা কঠিন, বারবার বলেছেন রতন থিয়াম।

সেই কণ্ঠস্বর বুজে যাওয়ায় আজ বড্ড মনে পড়ছে ‘চক্রব্যূহ’ নাটকের কথা, যা ভারতীয় থিয়েটারের ‘থিয়েটার অফ রুটস’ আন্দোলনের অংশ। এটি রতন থিয়ামের একটি মৌলিক কাজ এবং ১৯৭০-এর দশকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব তিনি। ‘চক্রব্যূহ’ নাটকটি মহাভারতের একটি অংশ থেকে অনুপ্রাণিত, যেখানে অভিমন্যুর চক্রব্যূহ ভেদ করার চেষ্টা এবং মৃত্যুর ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। নাটকটি মণিপুরের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি রূপক হিসেবেও উপস্থাপিত হয়েছে।

ইম্ফলে রতন থিয়ামের তৈরি ‘কোরাস রেপার্টরি কোম্পানি’ এই নাটকটি একাধিকবার মঞ্চস্থ করে। ১৯৮৬ সালে কমনওয়েলথ আর্টস ফেস্টিভ্যালে ‘ফ্রিঞ্জ ফার্স্ট’ পুরস্কার জেতে। এই নাটকে থিয়ামের থিয়েটারের শৈলী, যেখানে নাটকীয় শক্তি এবং দৃশ্যকলার মিশ্রণ দেখা যায়, তা বহুল প্রশংসিত হয়। এই নাটকে রতন থিয়াম প্রাচীন ভারতীয় নাট্যরীতিকে আধুনিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। ঐতিহ্যবাহী মণিপুরি নৃত্য ও সঙ্গীতের উপাদান ব্যবহার করেছেন, যা নাটকটিকে একটি অনন্য রূপ দিয়েছে। নাটকটি মণিপুরের রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে যুবকদের সংগ্রাম এবং অসহায়ত্বের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়।

আরও পড়ুন

রাজ্যের অধীনেই পৃথক সিইও দফতর গঠন: কী হতে পারে

তিনি চিত্রিত করেছেন কীভাবে সমাজের তরুণরা শক্তিশালী শক্তির ফাঁদে আটকা পড়ে, বিজয়ী বা শিকার হিসাবে নয়, বরং বলিদানকারী দাবার বোড়ে হিসাবে হিংসায় লিপ্ত হয়। এই আলোকে, নাটকটি দ্বন্দ্বের চক্রে যুবকদের ফাঁদে ফেলার ওপর একটি মর্মস্পর্শী প্রতিফলন হিসেবে কাজ করে। মণিপুরি মঞ্চে সহিংসতার চিত্রায়ন সাম্প্রতিক ঘটনা নয়। রাজনৈতিক নাটকগুলি দীর্ঘদিন ধরে মণিপুরি দর্শকদের মোহিত করেছে, তাদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে গভীরভাবে অনুরণিত হয়েছে। শুধু ‘চক্রব্যূহ’ নয়, রতনের ‘উত্তর প্রিয়দর্শী’ এবং ‘হে নাংসিবি পৃথী’ও মাস্টারপিস। ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামার চেয়ারপার্সন এবং সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমির ভাইস চেয়ারম্যান হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
‘চিত্রাঙ্গদা’ নৃত্যনাট্যে রবীন্দ্রনাথ যখন অর্জুনকে নিয়ে গিয়েছিলেন মণিপুরে, তখন স্বয়ং অর্জুনের মুখ দিয়ে বলেছিলেন, ‘মণিপুর নৃপদুহিতা তোমারে চিনি তপস্বিনী’। আন্তর্জাতিক নাট্যজগৎ তাঁকে এককথায় নাট্যকার হিসেবে চিহ্নিত করলেও তাঁর মধ্যে একজন কবির বসবাস ছিল। ‘আতোপ্মা মালেম’ কবিতায় রতন থিয়াম বলছেন, ‘ভাল কিছু ভাবতে না পারা মনটার জন্য/নিদেন একবার ওঝা ডেকে ঝাড়িয়ে নিলে হয় না’। ‘যুমাসিবু কনা কনা লৈবগে’ কবিতাটা চমক দেয়। ‘বাড়ি বাড়ি কে কে আছ?/খুব কাছেই বন্দুকের শব্দ শুনেছিলাম/নারী পুরুষের চিৎকার কান্নার শব্দ/…অনেক বুট জুতোর শব্দ শুনতে পাই/বাড়িতে কে কে আছ?’ দৃঢ় বাস্তবের ছবি থিয়ামের প্রতিটা শব্দে, ভাষ্যে, অনুভবে।

মণিপুরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা একসময়ের জাতীয় ফুটবলার যে বীরেন সিংকে সমালোচনার কষাঘাতে নির্বস্ত্র করেন থিয়াম, তাঁর মৃত্যুতে সেই বীরেন লিখেছেন, ‘রতন থিয়াম ছিলেন ভারতীয় থিয়েটারের এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা এবং মণিপুরের গর্বিত সন্তান।

- Advertisement -
Ad imageAd image

উত্তরের প্রান্তভূমি মণিপুর থেকে তিনি গোটা দেশের সাংস্কৃতিক ও নাট্যচেতনা বিকাশে এক প্রখর সেনাপতি হয়ে উঠেছিলেন। স্বাধীনতার পরের বছর, ১৯৪৮-এ মণিপুরে জন্ম, ৭৭ বছর বয়সে পাড়ি দিলেন নাট্যলোকে। খ্রিস্ট পূর্ব দ্বিতীয় শতকের ভারতের নাট্যশাস্ত্র থেকে গ্রিক ট্রাডিশনাল থিয়েটার থেকে নাট্য চেতনার রসদ সংগ্রহ করে তার আধুনিক রূপায়ণ ঘটান। মণিপুরের বিখ্যাত মার্শাল আর্ট ‘Thang Ta’ থিয়েটারে প্রয়োগ করে ‘অন্ধাযুদ্ধ’, ‘উরুভঙ্গম’-এর মতো অসাধারণ প্রযোজনা মঞ্চস্থ করেন। হিন্দি কবিতার ব্যবহারে করেছেন ‘উত্তর প্রিয়দর্শী’। গ্রিক আখ্যান আন্তিগোনে নিয়ে করেছেন ‘Lengshonnes’, জাপানের হিরোশিমায় পরমাণু বোমা নিক্ষেপের ভয়াবহতা মাথায় রেখে মহাভারতের থেকে রসদ নিয়ে করেছেন ‘অন্ধাযুদ্ধ’। হিরোশিমায় গিয়ে সেটি মঞ্চায়নও করেন।

মণিপুরের ঐতিহ্যবাহী শিল্পরূপ ও পারফরম্যান্স ধারাগুলোকে আধুনিক নাট্যভাষার সঙ্গে মিশিয়ে নির্মাণ করেছিলেন এক অনন্য নাট্যশৈলী। তাঁর থিয়েটারে স্থান পায় লোকসংস্কৃতি, আধ্যাত্মবাদ, দার্শনিক গভীরতা এবং প্রথাভাঙা দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি একবার বলেছিলেন, ‘সভ্যতা, সংস্কৃতি বলতে আমরা কী বুঝি? কোট-প্যান্ট পরা, মুঠোফোন হাতে ঘোরা? একেবারেই নয়। এসব তো আর্টিফিশিয়াল জিনিস, নকল। সভ্যতা-সংস্কৃতির সঙ্গে এসবের সম্পর্ক নেই। বরং এসবের মধ্যে থেকে আমরা সত্যিকারের সভ্যতা থেকে অনেক দূরে চলে যাচ্ছি। শিকড়ে ফেরার জন্যই আদিবাসী সংস্কৃতিকে জানা দরকার।’

ইউটিউবেও জাজবাত, আপডেট থাকুন আমাদের সঙ্গে

রতন থিয়ামই বলতে পারেন, ‘নাটক করতে গেলে স্বার্থ ত্যাগ করতে হয়। স্যাক্রিফাইস…প্রথমেই জানতে হবে যে মঞ্চনাটকে কোনও স্টার ইমেজ নেই। যে যতই ভাল পারফরম্যান্স করুক না কেন, কোনও স্টার ইমেজ নেই, পপুলারিটি নেই, টাকা-পয়সা আসবে না। অর্থাৎ এখানে কোনও ইন্ডাস্ট্রি নেই। নাটক হচ্ছে এমন একটা জিনিস, যেখানে সৌন্দর্যবোধ বা নান্দনিকতার খোঁজে অনেক কলা বা ক্র্যাফটকে জড়ো করা হয়।’ তাঁর কাজকে বলা হয় ‘সাইকো-ফিজিক্যাল থিয়েটার’, যেখানে শরীর ও চেতনার গভীর সংযোগ ঘটে। তাঁর নাটকে বারবার উঠে এসেছে যুদ্ধ, যন্ত্রণা, বিচ্ছিন্নতা। তাঁর ব্যাখ্যায়, ‘ম্যাকবেথ’ ছিল এক ধরনের মানসিক ব্যাধির নাট্যরূপ, যেখানে আছে ক্ষমতার মোহ, পাপবোধ ও আত্মধ্বংসের ঘূর্ণি।

মণিপুরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা একসময়ের জাতীয় ফুটবলার যে বীরেন সিংকে সমালোচনার কষাঘাতে নির্বস্ত্র করেন থিয়াম, তাঁর মৃত্যুতে সেই বীরেন লিখেছেন, ‘রতন থিয়াম ছিলেন ভারতীয় থিয়েটারের এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা এবং মণিপুরের গর্বিত সন্তান। তাঁর শিল্পনিষ্ঠা, দূরদৃষ্টি এবং মণিপুরি সংস্কৃতির প্রতি ভালবাসা শুধু থিয়েটার জগৎকেই সমৃদ্ধ করেনি, আমাদের পরিচিতি ও অস্তিত্বকেও করেছে সমৃদ্ধ। তাঁর কাজ ছিল মণিপুরের আত্মার প্রতিধ্বনি, যেখানে ছিল আমাদের গল্প, সংগ্রাম ও সৌন্দর্যের স্পর্শ। তাঁর আত্মা শান্তিতে বিশ্রাম করুক। রেখে যাওয়া সৃষ্টির মাধ্যমে এবং যাঁদের অনুপ্রাণিত করেছেন, তাঁদের মধ্য দিয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন তিনি।’

You Might Also Like

ভোটের আগে হুমায়ুন শিবিরে নোটিস-বোমা

সংগ্রাম দলুই বিজেপিতে যোগ, শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি

কী কথা সেটা কি লোককে বলে কেউ? লোকসভায় জুনের সঙ্গে ভাইরাল ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন সৌগত

ইসকনের মায়াপুরে কর্মসূচিতে যোগ, ভোটের আগে হিন্দুত্বে শান বঙ্গ বিজেপির

সিপিএম ছেড়ে তৃণমূলে প্রতীক-উর?

Sign Up For Daily Newsletter

Be keep up! Get the latest breaking news delivered straight to your inbox.
[mc4wp_form]
By signing up, you agree to our Terms of Use and acknowledge the data practices in our Privacy Policy. You may unsubscribe at any time.
Share This Article
Facebook Twitter Copy Link Print
Share
Previous Article আমার পাড়া, প্রকল্পের রাজনৈতিক তাৎপর্য আমার পাড়া, আমাদের সমাধান প্রকল্পের রাজনৈতিক তাৎপর্য
Next Article বেফাঁস দিলীপ ‘বেজন্মার দল’, বেফাঁস দিলীপ
Leave a comment Leave a comment

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Stay Connected

51kFollowersLike
5.2kSubscribersSubscribe
- Advertisement -
Ad imageAd image

Latest News

বিশ্বমঞ্চে স্বীকৃতি পেল ‘মাটির সৃষ্টি’ ও তিন সুগন্ধি চাল, আপ্লুত মুখ্যমন্ত্রী
রাজ্য February 19, 2026
রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করেছে ভারত?
দেশ বিদেশ February 19, 2026
খোলা জায়গায় আর মাংস বিক্রি নয়! কড়া হুশিয়ারি বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রীর
দেশ February 19, 2026
রামকৃষ্ণ দেবের জন্মতিথিতে মোদির পোস্টে বিতর্ক! বাংলার সংস্কৃতিতে ফের আঘাত, গর্জে উঠলেন মমতা
রাজ্য February 19, 2026

Advertise

  • Advertise

Recent Posts

  • বিশ্বমঞ্চে স্বীকৃতি পেল ‘মাটির সৃষ্টি’ ও তিন সুগন্ধি চাল, আপ্লুত মুখ্যমন্ত্রী
  • রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করেছে ভারত?
  • খোলা জায়গায় আর মাংস বিক্রি নয়! কড়া হুশিয়ারি বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রীর
  • রামকৃষ্ণ দেবের জন্মতিথিতে মোদির পোস্টে বিতর্ক! বাংলার সংস্কৃতিতে ফের আঘাত, গর্জে উঠলেন মমতা
  • মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা! ইরান-আমেরিকা সংঘাত কি নিকটে?

Recent Comments

No comments to show.
//

“We reach millions of viewers and are the leading news channel – Jazzbaat24 Bangla.”

Quick Link

  • Advertise with us
  • Newsletters
  • Deal

Download APP


Download on Play Store

Jazzbaat 24 BanglaJazzbaat 24 Bangla
Follow US
© 2024 Jazzbaat24Bangla News Network. All Rights Reserved.
  • Advertise
Welcome Back!

Sign in to your account

Lost your password?