বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে বৃহস্পতিবার সকালে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে আগেই তিনটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এই তিনটির মধ্যে একটিতে তাঁকে এদিন গ্রেফতার দেখানো হবে।
বিচারপতি হকের গ্রেফতারির পেছনে রাজনৈতিক চক্রান্ত কাজ করছে বলে দাবি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের। মিথ্যা মামলায় প্রাক্তন প্রধান বিচারপতিকে কারাগারে বন্দি করা হচ্ছে। কারণ মুজিবর হত্যাকারীদের অনেকেই বিচারপতি হকের হাতে সাজাপ্রাপ্ত। বহু বিতর্কিত মামলার রায়দান করেছেন তিনি। বিচারপতি হকই এক মামলায় রায় দেন, শেখ মুজিবই স্বাধীনতার ঘোষক। এহেন বিচারপতিকে গ্রেফতার করে সেই মামলাগুলোর মোড় ঘোরাতে চাইছে ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার।
উল্লেখ্য, প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক বাংলাদেশে বেশ আলোচিত ব্যক্তিত্ব। ২০১০ সালে দেশের উনিশতম প্রধান বিচারপতি হন তিনি। ক্ষমতায় তখন শেখ হাসিনার সরকার। পরের বছর তিনি অবসর নেন। মাত্র কয়েকমাস শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি থাকাকালে তিনি বাংলাদেশের সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেন। ওই ব্যবস্থায় নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের বিধান ছিল। ওই রায়ের কারণে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের দাবি মানেননি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিরোধী দল বিএনপি ওই রায়ের জন্য বিচারপতি হকের বিরুদ্ধে খড়্গহস্ত ছিল। প্রাক্তন প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে অন্যতম মামলাকারীও একজন বিএনপি নেতা।
বিচারপতি হক ধর্মীয় ফতোয়াকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে রায় দেন। এছাড়া হাই কোর্ট বিভাগে থাকাকালে খায়রুল হক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা মামলার রায় দেন। সেই রায়ে অভিযুক্তদের কঠোর সাজা দেয় আদালত।
এছাড়া বাংলাদেশ সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর কিছু অংশ তিনি বাতিল করেন এক রায়ে। পঞ্চম সংশোধনীতে ১৯৭৫ সালের ১৫ অগস্ট থেকে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত জারি করা সকল সামরিক আইন, আদেশ, বিধিকে বৈধতা দেওয়া হয়েছিল। ১৯৭৫-এর ১৫ অগস্ট বিক্ষুব্ধ সেনার হাতে খুন হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান৷
