একে ঝড় ও প্রবল বৃষ্টিতে রক্ষা নেই, তার উপর ফের আছড়ে পড়ল আরও একটি ঝড়। ফিলিপিন্সের পার্বত্য উত্তরাঞ্চলে শুক্রবার আছড়ে পড়ল ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়া এক ট্রপিক্যাল ঝড়, যার নাম কো-মে। শুক্রবার এই ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ায় আরও বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে সে দেশের মানুষ৷
গত কয়েক দিন ধরে ভারী বর্ষণ ও প্রবল বন্যায় বিপর্যস্ত ফিলিপিন্স৷ গত মঙ্গলবার টাইফুন উইফার দাপটে বিপর্যস্ত হয়েছে ফিলিপিন্সের অন্তত ৩০টি এলাকা। ভারী বর্ষণ, বন্যা ও ধসের জেরে পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। এখনও পর্যন্ত অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে যে দেশের দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তর। বহু মানুষজনকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে নিরাপদ জায়গায়।
জানা যাচ্ছে, বন্যা ও ধসের কারণে ২,৭৮,০০০ জনের বেশি মানুষ ঘর ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্র বা আত্মীয়দের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। প্রায় ৩,০০০ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগর ও দক্ষিণ চীন সাগরের মাঝে অবস্থিত ফিলিপিন্স প্রতিবছর প্রায় ২০টি টাইফুন ও ঝড়ের মুখে পড়ে। ভূমিকম্পপ্রবণ এই অঞ্চলে আছে প্রায় দু- ডজন সক্রিয় আগ্নেয়গিরিও। আসলে ফিলিপিন্স বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ হিসেবেই পরিচিত।
দুর্যোগের মধ্যেই শুক্রবার দেশের উত্তরাঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় কো-মে আছড়ে পড়ায় আরও বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে সে দেশের মানুষ৷ আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ঝড়ের বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১০২ কিলোমিটার৷ কো-মে এখনও পর্যন্ত সরাসরি কোনও প্রাণহানি ঘটায়নি বলে জানানো হলেও, এটা বর্ষার মরশুমে ফিলিপিন্সে আছড়ে পড়া পঞ্চম ঝড়।
এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক সেরে বৃহস্পতিবারই দেশে ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র। প্রয়োজনে ফিলিপিন্সকে সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাগুইয়ো শহরে অন্তত ৩০টি জায়গায় ভূমিধস হয়েছে৷ বন্ধ রাখা হয়েছে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সেখানে আশ্রয়শিবির খোলা হয়েছে৷
