‘মার খেয়ে বাড়ি আসবেন না, মারলে মারুন’, এভাবেই দলীয় কর্মীদের কাছে পাল্টা মারের দাওয়াই দিলেন অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী। গত কয়েকদিন আগেই দুর্গাপুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভা থেকে তিনি নিজে এবার ময়দানে নামছেন বলে মন্তব্য করেন বিজেপি নেতা। এরপরেই আজ শুক্রবার আরামবাগের দৌলতপুরে বিজেপির জেলা কার্যালয়ে দুটি বিধানসভা নিয়ে দলের কর্মী সম্মেলনে হাজির হন মিঠুন।
আর সেখানেই কর্মীদের এমন বার্তা তাঁর। একই সঙ্গে এদিন আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বুথের কর্মীদের মাটি কামড়ে পড়ে থাকার বার্তাও দেন। এমনকি কোনও অভিযোগ থাকলে তা যাতে ‘ক্লোজ ডোর’ মেটানো সম্ভব হয় সেজন্য কর্মীদের কাছে নিজের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর বিলিয়েছেন মিঠুন।
শুধু তাই নয়, দলের নেতা থেকে বিধায়কদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ থাকলে সরাসরি তাঁকে জানানোর কথা বলেন। কর্মী সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কর্মীদের যা বার্তা দেওয়ার দিয়ে দিয়েছি। কিছুটা থেমে বিজেপি নেতা আরও বলেন, ‘শুধু বলেছি, মার খেয়ে বাড়ি আসবে না, মারলে মারবেন’।
অন্যদিকে এদিন তৃণমূল নেতা তথা মুখপাত্র কুণাল ঘোষের নাম না করেও আক্রমণ শানান মিঠুন চক্রবর্তী। কার্যত কিছুটা মেজাজ হারিয়ে তাঁর মন্তব্য, ওই লোকটার নাম আমার সামনে করবেন না। ওটা একটা পচা নর্দমা। ওই লোকটার সাথে আমার কম্পেয়ার করবেন না।
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী নির্বাচনের দায়িত্ব সরাসরি পালন করবে নির্বাচন কমিশন। রাজ্য সরকার মানবে না কেন? যাদের বার করে দেওয়া হচ্ছে তারা কোথা থেকে এসেছে? পশ্চিমবঙ্গের কোন মানুষ কে বাদ দিলে তাহলে আমরাও প্রতিবাদ করব।
অন্যদিকে তৃণমূল সাংসদদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর। এই প্রশ্নে উত্তরে মিঠুন বলেন, অভিনেতা হিসেবে আমার সাথে বহু মানুষের পরিচয় রয়েছে। দীর্ঘদিন অভিনেতা হিসেবে কাজ করছি। বহুজনের সঙ্গে পরিচয়। কতজনের নাম বলব, মন্তব্য বিজেপি নেতার।
সম্প্রতি তৃণমূল থেকে বেরিয়ে নতুন দল তৈরির ঘোষণা করেছেন হুমায়ুন কবির। আর সে বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মিঠুন বলেন, ওটা ওনার ইচ্ছা। এই বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই। এদিনের বৈঠকে মিঠুন চক্রবর্তী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিজেপির আরামবাগ জেলা সাংগঠনিক সভাপতি সুশান্ত বেরা, বিধায়ক বিমান ঘোষ, বন্ধুসূদন বাগ সহ শতাধিক বিজেপি কর্মী ।
