আগামী সোমবার থেকেই কি সুষ্ঠুভাবে চলবে সংসদের অধিবেশন ? অন্তত তেমনই ইঙ্গিত মিলছে শুক্রবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকের পর। বাদল অধিবেশন শুরুর আগে গত শনিবার বিরোধী জোট ইন্ডিয়া ব্লকের বৈঠকে একাধিক বিষয় নিয়ে সরব হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ভার্চুয়াল বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে কলকাতা থেকে যোগ দিয়েছিলেন দলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠক শেষে কংগ্রেস মুখপাত্র প্রমোদ তিওয়ারি জানিয়েছিলেন, অপারেশন সিন্দুর নিয়ে আলোচনা এবং সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করবেন তাঁরা।
পাশাপাশি ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপেই ভারত ও পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বারংবার এই দাবির যথার্থতা নিয়েও কৈফিয়ৎ দিতে হবে সরকারকে। দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিহারে নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR নিয়েও এক জোটে বিরোধীরা সরব হবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
এর পাশে পাকিস্তান, চীন ও গাজার পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের বর্তমান বিদেশ নীতি ও কূটনৈতিক অবস্থান কি, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে মহিলা, দলিত ও সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার সংক্রান্ত বিষয়গুলি নিয়েও একজোটে বিরোধীরা সরব হবেন বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করতে গিয়ে বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের হেনস্তা করার প্রতিবাদেও ইন্ডিয়া ব্লকের বাকি দলগুলিকে পাশে পাওয়ার আবেদন জানিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস।
২১ জুলাই সোমবার থেকে শুরু হওয়া বাদল অধিবেশনে বিরোধীরা আলোচনার দাবি জানালেও তাকে মান্যতা দেয়নি ট্রেজারি বেঞ্চ। তার জেরে চলতি সপ্তাহে বারবার ব্যাহত হয়েছে সংসদের কাজ। সেদিন থেকে শুক্রবার পর্যন্ত টানা পাঁচদিনের অধিকাংশ সময়েই মুলতুবি থেকেছে লোকসভা। কিছুটা সময়ে রাজ্যসভায় আলোচনা হলেও তা না হওয়ারই শামিল। শুক্রবারও বিরোধীদের হই হট্টগোলে গোটা দিনের মতো মুলতুবি হয়ে যায় দুই কক্ষের অধিবেশন। SIR এর বিরোধিতা করে প্রতিদিনই সংসদ ভবনে মকরদ্বারের সামনে একজোট হয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছে বিরোধী শিবির। পাশাপাশি বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙালিদের হেনস্তা নিয়ে আলাদা করে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন তৃণমূল সাংসদরা।
এদিন অধিবেশন শুরুর আগে তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন বলেন, “সংসদে আমরা বারবার বাঙালি হেনস্তা নিয়ে সরব হয়েছি। সংসদের বাইরেও নানা জায়গায় আমরা তুলে ধরেছি, বাংলাভাষী ভারতীয়দের কীভাবে সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। কিন্তু এই নিয়ে ট্রেজারি বেঞ্চ আলোচনা করতে চায় না বলেই বারবার অধিবেশন মুলতুবি করে দেওয়া হচ্ছে।
সংসদ সুষ্ঠুভাবে চালানোর জন্য শুক্রবার বিকেলে সর্বদল বৈঠক করেন লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লা। এদিন লোকসভার অধিবেশন মুলতবি করে দেওয়ার সময় তিনি বলেন, গণতন্ত্রে মতপার্থক্য থাকবেই। কিন্তু আলোচনার মাধ্যমে তা মেটানো উচিত, স্লোগান দিয়ে নয়। সূত্রের খবর সর্বদলীয় বৈঠকে সরকার পক্ষ অপারেশন সিঁদুর নিয়ে আলোচনার জন্য রাজি হয়েছে। সোমবার লোকসভায় এই নিয়ে আলোচনা শুরু করবেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। মঙ্গলবার রাজ্যসভায় এই বিষয়ে আলোচনা হবে। লোকসভায় ১৬ ঘণ্টা এবং রাজ্যসভায় ৯ ঘণ্টা আলোচনার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানা গেছে সংবাদ মাধ্যম সূত্রে। সেই আলোচনার শেষেই সংসদের উভয় কক্ষে ভাষণ দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।
তবে অপারেশন সিন্দুর নিয়ে আলোচনায় রাজি হলেও SIR নিয়ে আলোচনায় এখনও রাজি নয় সরকার পক্ষ। গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের এক্তিয়ারভুক্ত, পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টে এই নিয়ে মামলা চলছে। তাই সংসদে এই নিয়ে আলোচনা করতে এই মুহূর্তে নারাজ বিজেপি। তাই সোমবার অপারেশন সিন্দুর নিয়ে আলোচনাতে বিরোধী শিবির অংশগ্রহণ করলেও SIR এর প্রতিবাদে সংসদের দুই কক্ষে প্রশ্নোত্তর পর্ব ও জিরো আওয়ার পণ্ড হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে।
