সীমান্তে প্রবল গোলাগুলি, ক্রমেই বড় ধরনের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে থাইল্যান্ড আর কম্বোডিয়া। দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত নিয়ে উত্তেজনা চলছে দুই দেশের৷ বৃহস্পতিবার সকালে থাই ও কম্বোডিয়া সীমান্তে দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। থাইল্যান্ডের সুরিন প্রদেশ ও কম্বোডিয়ার ওড্ডার মিঞ্চে এলাকার মাঝের সীমান্তে দুটি মন্দিরের কাছে শুরু হয় রক্তক্ষয়ী সংঘাত, শুক্রবারও তা অব্যাহত থেকেছে৷
থাই সেনাবাহিনী জানিয়েছে হামলায় কম্বোডিয়ার বাহিনী ভারী অস্ত্রের পাশাপাশি রকেটও ব্যবহার করেছে। অন্যদিকে সংঘাতে থাইল্যান্ড ছটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে। এর মধ্যে একটি কম্বোডিয়ার সামরিক ক্ষেত্রে গিয়ে হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। বিমান হামলার উদ্দেশ্য ছিল সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা। নানা সমস্যা থাকলেও দুই দেশের মধ্যে গত ১৩ বছরে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা। থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া দুই দেশই তাদের সীমান্ত বন্ধ করার পাশাপাশি কূটনীতিকদের বহিষ্কার করেছে।
সীমান্তে এই সংঘাত নিয়ে কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক বিবৃতিতে থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে আগে হামলা চালানোর অভিযোগ এনেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনীর হামলার পরই কম্বোডিয়ার সেনারা আত্মরক্ষার জন্য পাল্টা জবাব দিয়েছেন। থাই সেনা জানিয়েছেন, এই ঘটনায় ১৪ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত শতাধিক। ইতিমধ্যেই প্রায় ১ লাখ মানুষ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে নিরাপদ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন।
ইতিমধ্যে দুই দেশকে সংঘর্ষ বিরতির আহ্বান জানিয়েছে আমেরিকা, ফ্রান্স, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও চীন। থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘর্ষের কারণে জরুরি বৈঠকে বসছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ৷
