নানা ধরনের শারীরিক সমস্যার আশঙ্কা বেশি থাকে। অস্টিওপোরোসিস, স্তন ক্যান্সার, সার্ভিক্যাল ক্যান্সার, ইউরিন ইনফেকশন বা অটো ইমিউন রোগের পাশাপাশি আরও একটি সমস্যা নিঃশব্দে শরীরে বাসা বাঁধে। সেটি হল অ্যানিমিয়া বা শরীরে লোহিত রক্তকণিকার ঘাটতি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সি প্রায় ৩০ শতাংশ মহিলা এবং ৩৭ শতাংশ গর্ভবতী মহিলা অ্যানিমিয়ায় আক্রান্ত। মূলত মাসিক এবং হরমোন পরিবর্তনের কারণে মহিলারা এই সমস্যায় বেশি ভোগেন। অনেক সময় শরীরে আয়রনের ঘাটতি থাকলেও তা সহজে ধরা পড়ে না। আয়রনের ঘাটতি মানেই রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়া, যার ফলে শরীরে অক্সিজেন পৌঁছয় কম, আর দেখা দেয় অ্যানিমিয়া।
তাই এই ৩টি লক্ষণ অবহেলা করবেন না
১. সারাক্ষণ ক্লান্তি ও শুয়ে থাকতে ইচ্ছা করে:
যদি সবসময় ক্লান্ত লাগে, কাজ করতে ইচ্ছা না করে এবং বিছানায় বা সোফায় শুয়ে থাকতে মন চায়, তবে তা হতে পারে আয়রনের ঘাটতির লক্ষণ। অনেক সময় ডাক্তাররাও এই লক্ষণকে স্ট্রেস বা ঘুমের অভাব বলে এড়িয়ে যান।
২. মাথা ঘোরা বা হঠাৎ ভারসাম্য হারানো:
আয়রনের অভাবে হিমোগ্লোবিন কমে গেলে শরীরে অক্সিজেন পৌঁছয় না ঠিকমতো, যার ফলে উঠে দাঁড়ানোর সময় বা একটু হাঁটলেই মাথা ঘোরে।
৩. হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া:
এই লক্ষণ অনেক মহিলার মধ্যেই দেখা যায়। শরীরে রক্ত চলাচল ব্যাহত হলে হাত-পা ঠান্ডা লাগে, যা স্পষ্টভাবে আয়রনের ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।
ডাক্তাররা বলছেন, শুধু আয়রনের পরিমাণ দেখে অ্যানিমিয়া নির্ণয় করা যায় না। অনেক সময় রক্তে আয়রন ঠিকঠাক থাকলেও শরীরে আয়রন সঞ্চয়কারী প্রোটিন ফেরিটিনের ঘাটতি দেখা দেয়। ফলে এই পরীক্ষাও করা জরুরি।
আপনিও যদি শরীরে বারবার ক্লান্তি, মাথা ঘোরা বা হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার মতো কিছু উপসর্গ লক্ষ্য করেন , তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। শুধুমাত্র হিমোগ্লোবিন বা আয়রন নয়, ফেরিটিন টেস্ট করান। কারণ সুস্থ শরীর, সুখী জীবনের প্রথম শর্ত।
