মাত্র ৩০ মিনিটে শরীর টোনড, মেটাবলিজম বুস্ট আর ইমিউন সিস্টেম হবে দুর্দান্ত শক্তিশালী উইম হফ ব্রিদিং মেথড’ আজই শুরু করুন
আজকের ব্যস্ত জীবনে শরীরচর্চার জন্য সময় বের করাই দুষ্কর। তবে ব্যায়াম বা জিম ছাড়াও যদি শরীর সুগঠিত, মন শান্ত এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মজবুত করা যায়, তাহলে কেমন হয়? ঠিক এই সহজ অথচ কার্যকর সমাধান দিচ্ছে ‘উইম হফ ব্রিদিং মেথড’। এই বিশেষ শ্বাসপ্রশ্বাসের কৌশল মাত্র ৩০ মিনিট অনুশীলনে শরীরকে টোন করে, মেটাবলিজম বাড়ায় এবং ইমিউনো সিস্টেম শক্তিশালী করে তোলে।
বিশ্ববিখ্যাত ডাচ অ্যাথলিট ভিম হফ এই মেথড তৈরি করেন। তাঁর মতে, এটি মূলত তিনটি স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে, গভীর শ্বাস নেওয়ার পদ্ধতি, ঠান্ডা পরিবেশে শরীরকে সাময়িকভাবে এক্সপোজ করা এবং মানসিক নিয়ন্ত্রণ। ফিজিওথেরাপিস্ট ডা. ইন্দ্রমণি উপাধ্যায়ের মতে, এই পদ্ধতিতে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায়, ফলে ক্লান্তি ও মানসিক চাপ কমে যায় এবং শরীরে নতুন উদ্যমের সৃষ্টি হয়।
এই পদ্ধতিতে প্রথমে ৩০-৩৫ বার টানা গভীরভাবে শ্বাস নিয়ে ধীরে ধীরে ছেড়ে দিতে হয়। এরপর শেষ নিঃশ্বাস কিছুক্ষণ ধরে রাখতে হয়, যাতে শরীরে অতিরিক্ত অক্সিজেন প্রবাহ ঘটে। এরপর দ্বিতীয় ধাপে শরীরকে ঠান্ডা পানি বা ঠান্ডা পরিবেশে কিছুক্ষণ রাখা হয়, যা মেটাবলিজম বাড়ায় ও ব্রাউন ফ্যাট অ্যাক্টিভ করে, যা শরীরের জমে থাকা ফ্যাট বার্ন করতে সাহায্য করে। এটি ব্লাড সার্কুলেশন বাড়ায় এবং পেশিতে অক্সিজেন পৌঁছাতে সাহায্য করে, ফলে মাংসপেশি মজবুত হয় এবং ত্বকেও উজ্জ্বলতা আসে।
শুধু শারীরিক নয়, মানসিক স্বাস্থ্যেও এর প্রভাব অসাধারণ। নিয়মিত গভীর শ্বাসের ফলে কর্টিসল (স্ট্রেস হরমোন) কমে যায়, ফলে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ দূর হয়। এই পদ্ধতিতে মস্তিষ্কে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়ে, ফলে মনোযোগ ও স্মরণশক্তি বাড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি ডোপামিন ও সেরোটোনিনের মতো ‘ফিল গুড’ হরমোনের মাত্রা বাড়ায়, ফলে মন শান্ত ও স্থিতিশীল থাকে।
উইম হফ মেথড ইমিউন সিস্টেমও শক্তিশালী করে। এটি শরীরের WBC বা শ্বেত রক্তকণিকাগুলিকে সক্রিয় করে তোলে, যা ইনফেকশনের বিরুদ্ধে লড়াই করে। ঠান্ডা পরিবেশে শরীরকে সাময়িকভাবে এক্সপোজ করায় ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বাড়ে, শরীরের ইনফ্ল্যামেশন কমে এবং সর্দি-কাশি বা আর্থ্রাইটিসের মতো সমস্যায় উপশম মেলে।
তবে এই মেথড করার সময় কিছু সতর্কতা অবলম্বন জরুরি। খালি পেটে করা সবচেয়ে ভালো। বসে বা শুয়ে করে নিতে হবে, যাতে মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে গেলে বিপদ না ঘটে। ড্রাইভিং, সাঁতার কিংবা জলাশয়ের কাছে এই অনুশীলন একেবারে নয়। যদি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা হাঁপানি থাকে, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে শুরু করা উচিত।
