নিজের মাতৃভূমি সবার কাছেই স্বর্গের সমান। যেখানে জন্ম, বড় হওয়া, সেই স্থান আমৃত্যু সবার কাছে প্রিয়। কিন্তু সেই স্থানই যদি চোখের সামনে তলিয়ে যেতে শুরু করে, তাহলে সেটা নাগরিকদের কাছে খুবই কষ্টের। ঠিক যেমনটা হতে চলেছে ছোট্ট এই দ্বীপরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে। প্রশান্ত মহাসাগরের একটি ছোট দ্বীপরাষ্ট্র টুভালু।
অস্ট্রেলিয়া এবং হাওয়াইয়ের মধ্যে এই দ্বীপরাষ্ট্র অবস্থিত। এটি নয়টি নিম্ন অ্যাটল (প্রবাল প্রাচীর দ্বারা বেষ্টিত দ্বীপ) দ্বারা গঠিত। এর গড় উচ্চতা মাত্র ৬ ফুট (২ মিটার)। সর্বোচ্চ বিন্দুটিও মাত্র ১৫ ফুট (৪.৫ মিটার)। গত ৩০ বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৬ ইঞ্চি (১৫ সেন্টিমিটার) বৃদ্ধি পেয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ পরিণতিতে সলিল সমাধির মুখে এই সুন্দর দ্বীপরাষ্ট্র। বর্তমানে এই দ্বীপের বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে অন্যস্থানে আশ্রয় খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। শুরু হয়েছে অভিবাসন। জানা গেছে, জলের গ্রাসে পড়া এই দ্বীপের ৫,১৫৭ জন (যা দ্বীপরাষ্ট্রের প্রায় অর্ধেক মানুষ) পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র অস্ট্রেলিয়ায় ভিসার আবেদন করেছেন। কিন্তু নিয়ম মতে প্রতি বছর টুভালু থেকে ২৮০ জন অস্ট্রেলিয়ায় যেতে পারেন। তাই বিপুল আবেদনের পর রেজিস্ট্রেশন বন্ধ করে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, ২০৫০ সালের মধ্যে টুভালুর অর্ধেক জলে ডুবে যাবে। ২১০০ সালের মধ্যে ৯০% এরও বেশি ভূমি বিলীন হয়ে যেতে পারে। নাসার মতে, ২০৫০ সালের মধ্যে ফুনাফুতি (রাজধানী), যেখানে ৬০% মানুষ বাস করেন, তার অর্ধেক জলে ডুবে যাবে। এর পাশাপাশি, ঝড়, বন্যা এবং জলোচ্ছ্বাস টুভালুর ধ্বংস আরও ত্বরান্বিত করে তুলছে। সমুদ্রের লবণাক্ত জল মিষ্টি জলের কুয়োয় প্রবেশ করছে, যা পানীয় জল এবং ফসল নষ্ট করছে।
এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় অস্ট্রেলিয়া এবং টুভালু ২০২৩ সালে ফালেপিলি ইউনিয়ন চুক্তিতে স্বাক্ষর করে, যা ২০২৪ সালে কার্যকর হয়। এটি বিশ্বের প্রথম এই ধরনের চুক্তি, যা জলবায়ু পরিবর্তন দ্বারা প্রভাবিত একটি সম্পূর্ণ দেশের অভিবাসনের জন্য। এই চুক্তির আওতায় প্রতি বছর টুভালুর ২৮০ জন মানুষ অস্ট্রেলিয়া যেতে পারবেন। ১৬ জুন থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত ভিসার জন্য রেজিস্ট্রেশন হয়েছিল। প্রথম চার দিনেই ৩১২৫ জন আবেদন করেছিলেন। এখন পর্যন্ত ৫,১৫৭ জন ভাগ্য পরীক্ষা করেছেন, যা দেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক (১১,০০০)। এই ভিসার মাধ্যমে, টুভালুর মানুষ অস্ট্রেলিয়ায় থাকতে পারবেন। তাঁরা কাজ করতে পারবেন, পড়াশোনা করতে পারবেন। তাঁরা অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকদের মতো স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা পেতে পারবেন।
Leave a comment
Leave a comment
