কেউ বলছেন দিদি আর কেষ্টর দূরত্ব নাকি বেড়ে গেছে অনেকটাই। সেই যেনো শতেক যোজন দূরের সেই সম্পর্ক দুজনের তাঁদের। সেই মাথায় কম অক্সিজেন যাওয়া দিদির প্রিয় স্নেহধন্য ডাকাবুকো কেষ্ট এখন নাকি আর দিদির খুব কাছের আপনার নিজের লোক নন একদমই। আবার কেউ কেউ বলছেন দিদির কাছে চুপ চাপ চপ আর মুড়ি নিয়ে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে থেকে তিনি বুঝিয়ে দিলেন। এই চপ আর মুড়ির রসায়নে যে দিদি আর ভাইয়ের সম্পর্ক জুড়ে থাকে সেই সম্পর্ক কোনো দিন কি আর ভেঙে যায়, এই দমকা,পলকা, নব্য তৃণমূলীদের দূর্বল ঘূর্ণিঝড়ে।
যে বহু ঝড় সামলে আজ তিনি কেষ্ট মণ্ডল। সেই ইতিহাসের পাতায় নাম বের করা কেষ্ট মণ্ডল। যে কেষ্ট মণ্ডল দিদির সুখে দুঃখে, বিপদে আপদে, ঝাঁপিয়ে পড়েছেন যে কোনো সময়। যে কেষ্ট মণ্ডল নিজের জীবন দিয়ে ইডি আর সিবিআই এর মোকাবিলা করে জেল খেটে, মেয়েকেও জেলে নিয়ে গিয়ে কত কিছুই যে করে ফেললেন এই জীবনে তিনি মনে মনে ভাবেন আজ এই রাজনীতির শেষ জীবনে এসে তিনি আজ। আর সেই দিদি আসছেন বোলপুরে তিনি চপ আর মুড়ি নিয়ে। দিদির সামনে দাঁড়িয়ে হাত জোড় করে থাকবেন না, কথা বলবেন না, দূরে দূরে সরে থাকবেন এটা হয় নাকি।
যে ঝড় ঝাপটা ইদানিং কালে উঠেছে বীরভূমের ‘বাঘ’ কেষ্ট মণ্ডল এর সংসারে সেটাতে একটুও বিচলিত নন তিনি নিজেই। উদ্বেগ নেই কিছুতেই তাঁর। বিপি বেড়ে যায়নি বা সুগার বেড়ে যায়নি কিছুতেই তাঁর। এই কোর কমিটি, এই শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি, এই নানা জনকে নিয়ে গড়ে দেওয়া ছোটো বড়ো মেজো আর সেজোর ভাগাভাগির তৃণমূলের ব্রিগেড এর সংসারের মাঝে সেই বাড়ীর বড়োকর্তার একটি গুরু গম্ভীর সংসার। আর তার মাঝে কিছুটা যেনো অন্য একজনকে বাড়ীর বড়কর্তা হয়ে বাস করবসেই মানুষটিকে আলাদা করে গুরুত্ব দেওয়া মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর। যাঁকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না বলে গেল গেল রব উঠেছে বৃষ্টিভেজা শান্তিনিকেতনে ইতোমধ্যে।
যে শান্তিনিকেতনে ঘুরতে এসেই রাতেই একা একাই বৈঠক সেরে নিলেন বলে সংবাদ মাধ্যমের সূত্র মারফৎ জোর খবর মমতা কেষ্টর সাক্ষাৎ। একদম ঠিক রাধা আর রানীর গোপন অভিসার যেনো।কিন্তু সেই খবরের বিখ্যাত কারিগর সেই যাঁকে নিয়ে এতো হৈ চৈ হুল্লোড় তিনি কিন্তু মুখে কুলুপ এঁটে দিদির চপ আর মুড়ি নিয়ে হাসিমুখে হাজির দিদির প্রিয় রাত্রিবাসের জায়গা বোলপুরের রাঙাবিতানে। আসলে এটাই হলো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনীতি। সেই কেষ্ট আর কাজল। সেই কবেকার আকবর আর তপন। সেই ববি আর অরূপ। সেই এমন জেলায় জেলায় কতজনকে হাসি মুখেই সামলে নিয়ে আর ভালবাসার বন্ধনে বেঁধে নিয়ে নিজের আঁচলে পুড়ে নিজের সব কাজ করিয়ে নিয়ে কাটিয়ে দিলেন তিনি।
যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মা মাটির আর মানুষের সরকার আর তাঁর নিজের সংসার কে জানেন। যে সংসারে হাসিমুখে বিরাজ করে কেষ্ট মণ্ডল আর কাজল শেখ সবাই একসাথে। ঝগড়া ঝাঁটি হলেও।কেউ ভাবেন তিনি এগিয়ে গেছেন রাজনীতিতে অনেকটাই। আবার অন্যজন ভাবেন যে বলেছে আমিই এগিয়ে গেছি টপকে অন্যকে। এটা ভেবেই সে আড়মোড়া ভেঙে পায়ের উপর পা তুলে বিন্দাস হয়ে হাসতে হাসতেই বলতে থাকেন কে বাঘ আর কে ছাগল দেখা যাবে এইবার। আর তখন মুড়ি আর চপ নিয়ে দিদির সামনে ভয়ে কম্পমান হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন রবি ঠাকুরের লেখায় যা কিছু হারায় গিন্নি বলেন কেষ্টা বেটাই চোর।
