শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, আগামী আগস্ট মাসেই গোটা দেশেই একসঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া চালু করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। আর সেই কারণেই পশ্চিমবঙ্গ সহ সব রাজ্যেই (বিহার বাদে) এসআইআর প্রক্রিয়ার জন্য নির্ধারিত বেস ইয়ার বা ভিত্তিবর্ষ ভোটার তালিকা কমিশনের ওয়েবসাইটে ধাপে ধাপে প্রকাশ করার কাজ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন।
পশ্চিমবঙ্গেও ইতিমধ্যেই ২০০২ সালের ভোটার তালিকা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এর দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার কাজ শুরু হয়েছে। ceowestbengal.nic.in ওয়েবসাইটে ক্লিক করলেই ২০০২ সালের ভোটার তালিকার হদিশ মিলবে। আর সেখানেই রাজ্যের ভোটাররা ওই ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম আছে কি না, তা যাচাই করে নিতে পারবেন। উল্লেখযোগ্য, বিহারে যেমন ২০০৩ সালের ভোটার তালিকাকে বেস ইয়ার ধরে এস আই আর প্রক্রিয়া করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে ২০০২ সালকে এসআইআর প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে বেস ইয়ার ধরা হবে বলে আগেই নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছিল। এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের ১১টি জেলার ১০৯টি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকা আপলোড করা হয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের ওয়েবসাইটে।
সাধারণত ভোটার তালিকার রিভিশন ক্যালেন্ডার ইয়ার ধরে হয়। তাই ক্যালেন্ডারের প্রথম মাস জানুয়ারির মাসের প্রথম সপ্তাহে যেকোনো রাজ্যের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়। যেহেতু বিহারে নভেম্বর মাসে নির্বাচন সে কারণে বিহারের আসন্ন নির্বাচনে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন এর কাজ আলাদাভাবে করেছেন নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গ সহ পাঁচ রাজ্যের নির্বাচন রয়েছে আগামী মে মাসে। সে ক্ষেত্রে জানুয়ারি মাসে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কোনও অসুবিধা নেই। তাই পশ্চিমবঙ্গ সহ বাকি সমস্ত রাজ্যে ভোটার তালিকা এই স্পেশাল ইনটেন্সিভ রিভিশনের কাজ একসঙ্গেই করতে চায় নির্বাচন কমিশন। যদিও এ সম্পর্কে এখনও কোনও সুনির্দিষ্ট নোটিফিকেশন জারি করেনি কমিশন। তবে রাজ্যে রাজ্যে যেভাবে বেশ ইয়ার ধরে ভোটার তালিকা প্রকাশের কাজ শুরু হয়েছে, তাতে এটা স্পষ্ট যে, পশ্চিমবঙ্গ সহ গোটা দেশেই কমিশন একসঙ্গে এসআইআরের কাজ শুরু করতে চায়। একথা জানিয়েছেন পদস্থ আধিকারিকরা।
কমিশনের এক পদস্থ কর্তার মতে, এসআইআর নিয়ে অযথা আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। তবুও বিহারে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে যেভাবে রাজনৈতিক জলঘোলা হয়েছে, তাতে সাধারণ মানুষের মনে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে একটা সংশয় তৈরি হয়েছে। এসআইআর নিয়ে রাজ্যের মানুষের আতঙ্ক কাটাতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে তাই ২০০২ সালের ভোটার তালিকা প্রকাশের কাজ শুরু করা হয়েছে। রাজ্যের মানুষ যাতে খুব সহজেই নিজেদের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় খুঁজে পান সেই কথা মাথায় রেখেই নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, আগামী আগস্ট মাস থেকেই এই রাজ্য সহ গোটা দেশে একসঙ্গে চালু হতে চলেছে এসআইআর। সেই কারণেই ভোটার তালিকা প্রকাশ করে মানুষের আতঙ্কের ভার অনেকটাই লাঘব করতে চায় নির্বাচন কমিশন। কমিশনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে অঙ্গীকার করতে হয় যে অন্য কোথাও কোন ভোটার তালিকায় তাঁর নাম নেই। যদি থাকে, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে কমিশনের আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেহেতু এ ধরনের অঙ্গীকার একজন ভোটারকে করতে হয়, সে কারণেই কোথাও যাতে ডুপ্লিকেট এন্ট্রি বা একই ভোটারের নাম দু’জায়গায় না থাকে সেজন্য গোটা দেশে একসঙ্গে এসআইআর চালু করতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন।
