বৃষ্টিতে স্থগিত হয়ে গিয়েছিল কলকাতা লিগে ইস্টবেঙ্গল বনাম বেহালা এসএস ম্যাচ। সমর্থকদের মনে হতেই পারে, ভাগ্যিস হয়েছিল! না হলে মঙ্গলবারের আভিজাত্যটা দেখা যেত নাকি? এ ইস্টবেঙ্গল একেবারেই অন্য ইস্টবেঙ্গল। ডুরান্ড কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে সাউথ ইউনাইটেড এফসিকে ৫ গোলে উড়িয়ে দিয়ে সেই যে মশাল জ্বলেছিল তার আলো ছড়ায় ডার্বিতেও। আর এ বার ডার্বির ৩ দিন পর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের উৎসবের দিনেও বেহালা এসএসকে বলে বলে আধডজন গোল দিল লাল-হলুদ বাহিনী।
এক কথায়, হঠাৎ করেই এক স্বপ্নের জগতে ঢুকে পড়েছে ইস্টবেঙ্গল। একাধিক নতুন তারকার উপস্থিতি যেন অদৃশ্য এক জাদুকাঠির ছোঁয়ায় আমূল বদলে দিয়েছে গোটা দলকে। তাই পুনরাবৃত্তি ঘটল না ইতিহাসেরও। ইতিহাস সাক্ষী রয়েছে, এর আগে একাধিকবার ডার্বির পরের ম্যাচেই মুখ থুবড়ে পড়েছে ডার্বিজয়ী দল। ব্যারাকপুর স্টেডিয়ামে সেই ইতিহাসকে ধারেকাছে ঘেঁষতে না দিয়ে বিএসএসকে ৬ গোল দিল বিনো জর্জের ছেলেরা।
মোহনবাগান দিবসে ম্যাচ শুরুর আগেই সামাজিক মাধ্যমে একটি বিশেষ বার্তা দিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। লেখা হয়, “বৃষ্টিভেজা দুপুরে লাল-হলুদ অঙ্গীকার।” সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়িত করে গোটা ম্যাচজুড়েই দাপট ডেভিড-মহম্মদ আশিকদের। আক্রমণের পর আক্রমণে বেহাল বেহালার রক্ষণ। ম্যাচের ১৮ মিনিটে তন্ময়ের কর্নার থেকে গোল করে মশাল বাহিনীকে এগিয়ে দিয়েছিলেন চাকু মাণ্ডি। ৩০ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান ডেভিড। যিনি ডার্বিতেও জয়সূচক গোলটি করেছিলেন দলের হয়ে।
এরপর ৩৩ মিনিটে আবার গোল। এ বার মহম্মদ আশিক। ফলে প্রথমার্ধেই ৩-০ এগিয়ে যান বিনো জর্জের ছাত্ররা। দ্বিতীয়ার্ধে বাকি ৩ টি গোল যথাক্রমে নাসিব রহমান, মার্ক জোথানপুইয়া এবং গুইতে ভানলালপেকার। ৭১ থেকে ৭৫, মাত্র ৪ মিনিটে ৩ গোল ইস্টবেঙ্গলের। সব মিলিয়ে মামনি পাঠচক্রের কাছে হারের পর যে আত্মবিশ্বাস তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল তা এখন সপ্তম স্বর্গে। মশাল হাতে এক স্বপ্নের দৌড় লেসলি ক্লডিয়াস সরণির ক্লাবের। ৬ ম্যাচে ১১ অঙ্ক নিয়ে পয়েন্ট তালিকার তৃতীয় স্থানে উঠে এল তারা। কলকাতা লিগ জয়ের স্বপ্ন চাগাড় দিচ্ছে ক্রমশই।
