আজকাল অনেক বাবা-মা মনে করেন, তাঁদের সন্তান যেন কোনও চাপের মুখোমুখি না হয়। সব সময় যেন সুখের ঘেরাটোপে বড় হয়। তাই সন্তানদের সব সমস্যার আগে দাঁড়িয়ে পড়েন মা বাবারা। যাতে একটুও কষ্ট না পায়। কিন্তু এই বাড়তি সুরক্ষা অনেক সময় শিশুর ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এই বিষয়ে থেরাপিস্টরা বলেন, প্রত্যেক শিশুর জীবনে কিছুটা চাপ থাকা দরকার। কারণ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলে, শিশুরা নিজেরাই তাদের ছোট্ট বুদ্ধি দিয়ে শেখে কীভাবে সমস্যার সমাধান করতে হয়। এতে ওরা বুদ্ধিমান, আত্মনির্ভর ও মানসিকভাবে শক্তিশালী হয়। তিনি আরও বলেন, আজকাল অনেক বাবা-মা অতিরিক্তভাবে সন্তানদের আগলে রাখেন। কিন্তু এভাবে সবকিছু থেকে বাঁচালে শিশুরা স্বস্তি ও নির্ভরতার বাইরে বেরোতে পারে না। ফলে নতুন কিছু শেখার সুযোগও পায় না।
যখন শিশুকে নতুন কিছু শেখার জন্য একটু কষ্ট করতে হয়, যেমন নতুন ভাষা শেখা, নিয়ম মানা বা ভুল করলে তার ফল বুঝতে শেখা, তখন যে চাপ হয়, তা ইতিবাচক। এই ধরনের চাপ শিশুর বুদ্ধি বাড়ায়, চিন্তার ক্ষমতা বাড়ায় এবং জীবনের জন্য প্রস্তুত করে। যদি কোনও শিশু সারাদিন চাপের মধ্যে থাকে, যেমন বাড়িতে সব সময় ঝগড়া, গালমন্দ, মারধর, বা স্কুলে বুলিং, তাহলে এই চাপ তাকে মানসিকভাবে দুর্বল করে দেয়। একে ‘বিষাক্ত চাপ’ বলা হয়, যা শিশুর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
সন্তানদের সবসময় সমস্যার হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে আমরা কখনও কখনও ওদের শেখার পথ আটকে দিই। তাই বাবা-মা হিসেবে আমাদের উচিত বুঝে নেওয়া, কোন চাপটা শিশুর পক্ষে উপকারী এবং কোনটা ক্ষতিকর। শুধুমাত্র ভালোবাসা দিয়ে নয়, সঠিক পথে গাইড করেই একটি শিশুকে সত্যিকারের শক্তিশালী মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
