তারকা তামিল অভিনেতা বিজয় সেতুপতির বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। কাস্টিং কাউচ থেকে যৌন হেনস্তা, একাধিক গুরুতর অভিযোগে নাম জড়াল তারকার। রম্যা মোহন নামের এক নেটিজেন দাবি করেছেন, বিজয় সেতুপতি এক মহিলাকে ‘বছরের পর বছর নির্যাতন করেছেন’। তিনি বর্তমানে গণমাধ্যমের পরিচিত মুখ। বর্তমানে একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে রয়েছেন। রম্যার অভিযোগ, অভিনেতা তাঁকে এমন এক জগতে টেনে নিয়ে গিয়েছেন, যার সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক ছিল না। সেই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট উল্লেখ করেন, কীভাবে বিজয় সেতুপতির মতো অভিনেতারা সাধু সাজার অভিনয় করে দর্শকের ভালোবাসা অর্জন করেন। রীতিমতো ক্ষোভ স্পষ্ট তাঁর পোস্টে।
রম্যা মোহন তাঁর এক্স (পূর্ববর্তী ট্যুইটার) হ্যান্ডলে এই পোস্ট করেন। যদিও সেই পোস্ট পরে ডিলিট করে দেন তিনি। সেই ট্যুইটে বিজয় সেতুপতির অফিসিয়াল হ্যান্ডল ট্যাগ করে লেখা ছিল, “বিজয় সেতুপতি ২ লক্ষ টাকা অফার করেছিলেন ‘ক্যারাভান ফেভার্স’-এর জন্য, ৫০ হাজার টাকা ‘ড্রাইভ’-এর জন্য, আর সেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সাধুর মতো আচরণ করেন। সে মেয়েটিকে বছরের পর বছর ব্যবহার করেছেন। এটা শুধু একটা গল্প নয়, অনেক এমন গল্প আছে। অথচ মিডিয়া এদের পুজো করে, যেন ওরা সাধু! ড্রাগ-সেক্স চক্রের অস্তিত্ব বাস্তবে আছে, এটা কোনও মজা নয়।” তিনি আরও লেখেন, কলিউডে মাদক ও কাস্টিং কাউচ কালচারের বাস্তবতা খুবই ভয়ানক, এবং অভিনেতার দ্বারা শোষিত সেই মহিলা এখন মাদক সেবন, মানসিক নির্যাতন ও তথাকথিত “ইন্ডাস্ট্রি নর্মস”-এর আড়ালে গিয়ে পুনর্বাসনে রয়েছেন।
অপর একটি টুইটে রম্যা লেখেন, “অবিশ্বাস্য যে কিছু মানুষ কতটা অসংবেদনশীল। তাঁরা এই দাবির সোর্স নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, নির্যাতিতাকে দোষ দিচ্ছেন, অথচ আসল সত্যের মুখোমুখি হচ্ছে না। যখন পরিবারের লোকেরা ওর ডায়েরি আর ফোনের চ্যাট পড়েন, তাঁদের মাথায় রীতিমতো আকাশ ভেঙে পড়ে। এটা কোনও কাহিনি নয়—এটাই ছিল ওর জীবন, ওর যন্ত্রণা।” এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই রীতিমতো ভাইরাল হয়। বিজয় সেতুপতি সিনেদুনিয়ার তারকা, শুধু দক্ষিণী ছবিতেই নয়, তাঁর বিস্তার বলিউডেও। তাঁর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগে তৈরি হয় বিতর্ক, জল্পনা, আলোচনা।
উল্লেখ্য, বিজয় সেতুপতির বিরুদ্ধে তোলা একগুচ্ছ গুরুতর অভিযোগের সেই বিস্ফোরক ট্যুইট পরে মুছে দেন রম্যা। তাঁর কথায়, তিনি হতাশা থেকে ওই পোস্টটি করেছিলেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে এভাবে ছড়িয়ে পড়বে ভাবেননি। তিনি আরও বলেন, “অনেকেই এখন আমাকে এ নিয়ে প্রশ্ন করছেন। মেয়েটির গোপনীয়তা ও মানসিক অবস্থার কথা ভেবে আমি পোস্টটি ডিলিট করে দিয়েছি। দয়া করে এই সিদ্ধান্তকে সম্মান করা হোক।” এই অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত বিজয় সেতুপতির পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
